বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ॥ দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আগাম হাইব্রিড আমন ধান কাটা কর্মসূচী আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় বীরগঞ্জ উপজেলার পুর্ব জগদল গ্রামে পৌরসভা ব্লকের উদ্যোক্তা কৃষক মোঃ মমিনুল ইসলামের জমিতে ইস্পাহানী-০২ হাইব্রীড জাতের ধান কাটা কর্মসুচীর উদ্বোধন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইং এর পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আব্দুল হান্নান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, উপজেলার পুর্ব জগদল গ্রামে পৌরসভা ব্লকের উদ্যোক্তা কৃষক মোঃ মমিনুল ইসলামের ২একর জমিতে ইস্পাহানী-০২ হাইব্রীড জাতের ধান আবাদ করা হয়। ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মাজেদসহ সকল কর্মকর্তাবৃন্দ সার্বক্ষণিক তত্বাবধানে জমিতে বাম্পার ফলন হয়েছে। এই এলাকায় হাইব্রিড রোপা আমনের যেসব জাত চাষ করা হচ্ছে তার জীবনকাল ১১০-১২০ দিন অর্থাৎ বীজবপন থেকে শুরু করে কর্তন পর্যন্ত সময় লাগে সর্বোচ্চ ১২০ দিন। জুন মাসের ১ম সপ্তাহে বীজবপন করে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ নাগাদ ধান ঘরে তোলা যায়। এ হাইব্রিড জাতগুলো চাষ করে কৃষকরা হেক্টরে ৩.৪-৩.৯ টন (চাউলে) পর্যন্ত ফলন পাচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইং এর পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আব্দুল হান্নান জানান, এ ধরনের আগাম ধান কর্তনের ফলে বাজারে বর্তমানে চালের মূল্য বৃদ্ধির যে প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা দ্রুতই কমে আসবে। এ ধানে একদিকে যেমন কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে অন্যদিকে অসময়ে বাজারে ধান ও চালের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় চাল ও ধানের বাজার মুল্য নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। তাছাড়া কর্তনকৃত এ সব জমিতে আগাম রবি ফসল চাষ করার ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আগাম চাষ ও কর্তণের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রোগ পোকামাকড় থেকে ফসল রক্ষা সহ এক জমিতে বৎসরে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।

এ সময়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দিনাজপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ জুলফিকার হায়দর, উপ-পরিচালক মোঃ গোলাম মোস্তফা, জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র রায়, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অরুন চন্দ্র রায়সহ উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকগণ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য