ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ ধানের দেশ দিনাজপুরে দেখা দিয়েছে চালের হা হা কার, বর্তমান বাজরে টাউলের দামে দিশে হারা হয়ে পড়েছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ।

এক জন রিক্সাচালক কিংবা দিন মজুর, সারাদিনে যে আয় করে, তা দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী চাউল কেনায় অসম্ভাব হয়ে পড়েছে। সংসারের অনান্য খরছ পেষাক-আশাক ও ছেলে-মেয়েদের লেখা পড়া খরছ বহর করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পৌর এলাকার রিক্সাচালক আবুল হোসেন, সে রিক্সা চালিয়ে সংসার পরিচালনা করে, বাড়ীতে তার চার ছেলে-মেয়েসহ সাত জন সদস্য প্রতিদিনে তার সংসারে তিন কেজি চাউলের প্রয়োজন হয়। রিক্সা চালক আবুল হোসেন জানায়, এই উপজেলা শহরে এখন মন্দা বাজার, রিক্সা চালিয়ে ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা আয় হয়। বাজারে এখন চাউল ৫৬ টাকা থেকে ৬০ টাকা কেজি, তিন কেজি চাউল কিনতে তার রোজগারের পুরো টাকা চলে যায়, আবুল হোসেন আরো বলেন সুধু চাউল দিয়ে তো আর সংসার চলে না, সাথে সংসারের অনান্য খরছসহ ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার খরছ আছে, সে গুলো চলবে কিভাবে। একই কথা বলেন দিন মজুর জামিল মিয়া, তার বাড়ীতে ৬ জন সদস্য দিন মজুরী দিয়ে যে আয় হয তার পুরোটায় চলে যায় চাউল কিনতে। এই অবস্থা কেবল আবুল ও জামিল হোসেন এর নয়, সকল খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের। দিন মজুরদের এখন মাঠে কাজ নাই, তার উপর চাউলের বাজার দরে এখন তাদের মাথায় হাত পড়েছে।

বারকোনা গ্রামের ষাট উদ্ধৃ বয়সী গ্রাম্য চিকিৎসক মোজাফ্ফল রহমান বলছেন, ৬০ টাকা চাউলের কেজি কোন দিন হবে, তা কোন দিন কল্পনাও করতে পারিনাই। একই কথা বলেন গৌরীপাড়া গ্রামের বজলার রহমান, ইয়াকুব আলী। তারা বলেন ২০০৮ সারের তৎকালিন তত্তাবাধক সরকারের সময় ৩৮ টাকা থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত চাউলের দাম উঠেছিল, সে দাম এখন ছেড়ে গেচে ষাট টাকা দরে, আগামীতে আরো কি হবে তার কোন নিশ্চয়তা নাই।

সুধু যে নি¤œ আয়ের মানুষ চাউলের দামে বিপাকে পড়েছে তা নয়, চাউলের দামে দিশে হারা হয়ে পড়েছে নি¤œ পদের চাকুরি জিবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও। শহরের রেলগেট বাজারের পান দোকানদার রফিক উদ্দিন বলেন পান-সিগারেটের দোকান করে প্রতিদিন ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়, তার চার মেয়ে, দু’জন মাধ্যমিক স্কুলে ও দু’জন কলেজে লেখাপড়া করে, এখন সংসারের চাউল কিনতে তার পুরো রোজগার চলে যায়, কিভাবে মেয়েদের লেখা-পড়া ও সংসারের অনান্য খরছ যোগাবে তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। একজন বে-সরকারী স্কুল শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার সত্বে বলেন, তিনি যে বেতন পায়, তার অর্ধেক টাকা চলে যাচ্ছে সুধু সংসারের চাউল কিনতে। একই অবস্থা অনান্য নিম্ন পদের চাকুরি জিবীদের।

দেশের খাদ্য ভান্ডার বলে খ্যাত ধান উৎপাদনকারী জেলা দিনাজপুরে এখন চাউলের হা হা কার পড়েছে, চাউল ব্যবসায়ীরা জানান গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজি প্রতি ১০ টাকা থেকে ১২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামীতে আরো একধাফ চাউলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা আছে। যদি চাউলের দাম আরো একধাপ বৃদ্ধি পায়, তাহলে চরম দর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে এই অঞ্চলে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এটিএম হামিম আশরাফ বলেন এই উপজেলায বছরে এক লাখ ষাট হাজার মেঃ টন ধান উৎপাদন হয়, কিন্তু দেশের অনান্য অঞ্চলে বোরো ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চরের ধান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে যায়। ফলে এখন এই অঞ্চরে চাউলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এদিকে উপজেলা খাদ্র কমৃকর্তা মধু সদন দত্ত বলছেন গোডাউনে এখনো যে পরিমান খাদ্য মজুদ আচে তা দিয়ে আমন মৌসুম আসা পর্যন্ত চাউলের সঙ্কট পড়বে না।

এদিকে চাউল ব্যবসায়ীরা বলছেন পাইকারী বাজারে চাউরের সরবরাহ কমে গেছে, এতে টাকা দিয়েও চাহিদামত চাউল পাওয়া যাচ্ছেনা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য