রজব আলী, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) থেকেঃ দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনি থেকে পুরোদমে শুরু হয়েছে আকার ভিক্তিক পাথর উত্তোলন। খনি থেকে পাথর উত্তোলন শুরু হওয়ায় ব্যবপক কর্মযঞ্জ শুরু হয়েছে খনি এলাকায়, প্রান ফিরে পেয়েছে পাথর খনিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোও।

দির্ঘদিন বন্ধ থাকার পর খনি থেকে পাথর উত্তোলন শুরু হওয়ায়, প্রান ফিরে পেল দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল এই পাথর খনিটি। আজ বৃহস্পতিবার মধ্যপাড়া পাথর খনিতে গিয়ে দেখা যায়, খনির প্রধান ফটকের সামনে দাড়িয়ে থাকা পাথর নিতে আসা ট্রাকের দির্ঘ লাইন, পাথর ইয়াডেও সারী সারী ট্রাক।

মধ্যপাড়া কাঠনশীলা প্রকল্পের খনি থেকে পাথর উৎপাদন ও উন্নায়ন কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রাষ্ট কনসোটিয়াম (জিটিসি) কর্তৃক নির্মান কৃত নতুন স্টোপ থেকে আকার ভিক্তিক পাথর উত্তোলন শুরু করেছে, একই সাথে আরো নতুন স্টোপের উন্নায়ন কাজ দ্রুত গতিতে করছে।

জিটিসি কর্তৃপক্ষ বলছেন খনির উন্নায়ন ও উৎপাদনের কাজ দিন-রাত তিন শিপ্টে ২৪ ঘন্টায় চলছে পূর্বের তুলুনায় দ্বিগুন হারে। এতে প্রতিদিনে পাথর উত্তোলন হচ্ছে দুই হাজার থেকে তিন হাজার মেটন। উন্নায়ন কাজ মেষ হলে এই উৎপান ছয় হাজার মেটন থেকে আট হাজার মেটনে দাড়াঁবে।

খনি সুত্রে জানা গেছে বর্তমানে খনিটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি’র অধিনে বেলারুশিয়ান কোম্পানীর ৭২ জন খনি প্রকৌশলী, ৫০ জন স্থানীয় প্রকৌশলী ও ইন্টারপ্রিটার,১৫০ জন স্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পাচঁ’শ জন খনি শ্রমিকসহ সাড়ে আট’শ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিন-রাত তিন শিপ্টে খনিতে কাজ কারছে।

খনিটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি কর্তৃপক্ষ জানায় বিদেশ থেকে আধুনিক ও বিশ্বমানের যন্ত্রপাতি আমদানী করে গত ২০১৬ সালের নভেম্বর মাস থেকে নতুন স্টোপ নির্মান কাজ শুরু করে,। মাত্র ১০ মাসে নতুন তিনটি স্টোপ(পাথর উৎপান ইউনিট) এর নির্মান কাজ সম্পুর্ন করে ছয় নং স্টোপ থেকে তিন শিপ্টে পাথর উত্তোলন শুরু করে।

জিটিসি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে বলেন পেট্রোবাংলার অধিনস্থ মধ্যপাড়া খনি কর্তৃপক্ষ বিদেশী আধুনিক যত্রপাতি আমদানী করার প্রক্রিয়া বিলম্ব করায় খনিটির উৎপাদন পিছিয়েছে। তবে জিটিসি’র এই অভিযোগ অ¯^ীকার করেছেন মধ্যপাড়া খনি কর্তৃপক্ষ। মধ্যপাড়া কঠিনশীলা প্রকল্পর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ মাহমুদ হাছান বলেন যথা সময়ে মধ্যপাড়া খনি কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহন করেছে বিদেশী যন্ত্রপাতি আমদানী করার এলসি খোলা হলেও, তিন মাস থেকে এক বছর বিলম্ব করেছে জিটিসি কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য মধ্যপাড়া কঠিনশীলা প্রকল্পটি গত ২০০৮ সাল থেকে উৎপাদন শুরু করে। শুরুতে প্রতিদিনের উৎপাদন দুই হাজার মেঃ টন পাথর উত্তোলন হলেও, ২০১২ সালে এসে প্রতিদিনের উৎপাদন দাড়াঁয় মাত্র আট’শ মেঃ টনে। এতে বড় রকমের লোকশানের মুখে পড়ে এই সম্ভাবনাময় পাথর খনিটি। এই কারনে ২০১৩ সালের শেষ সময়ে এসে, বেলারুশ ভিক্তিক জয়েন্ট ভেঞ্জার কোম্পানী, জার্মানীয়া ট্রাষ্ট কনসোটিয়াম (জিটিসি( এর সাথে খনিটির উৎপাদন ও উন্নায়ন এর চুক্তি বদ্ধ হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৪ সালে, খনিটির উৎপাদন ও উন্নায়নের দায়ীত্ব ভার গ্রহন করেন বর্তমান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি।

জিটিসি দায়ীত্ব নেয়ার পরেই তিন শিপ্টে পাথর উত্তোলনের কাজ শুরু করে। তিন শিপ্টে পাথর উত্তোলন শুরু হওয়ায়, প্রতিদিনের পাথর উত্তোলন দাঁড়ায় সাড়ে চার হাজার মেঃ টনে, এতে খনিটি লোকশানের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে লাভের মুখ দেখতে শুরু করে, কিন্তু উৎপাদন যন্ত্রের অভাবে ২০১৫ সালে আবারো পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। পাথর উত্তোলন বন্ধ হওয়ার পর, খনিটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি বিদেশ থেকে আধুনিক বিশ্বমানের খনিজ যন্ত্র আমদানী করে ও নতুন স্টোপ তৈরী করে। বর্তমানে নতুন করে তৈরী করা নতুন স্টোপ থেকে আবারো পুরোদমে পাথর উত্তোলন শুরু করেছে।

জিটিসি বলছেন পিছিয়ে যাওয়া মধ্যপাড়া পাথর খনিটি এগিয়ে নেয়ার জন্য সর্বাত্তক প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে বেলারুশিয়ান দক্ষ খনি প্রকৌশীলা। মধ্যপাড়ার পাথর দেশের চাহিদা পুরন করে বিদেশ থেকে পাথর আমদানী করতে খরচ হওয়া বৈদেশিক মুদ্রা অপচয়ের হাত থেকে রক্ষা করবে। একই সাথে এই অঞ্চলের শিল্প উন্নায়নের মাধ্যমে বেকার যুবকেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য