আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পল­ীতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বাউল শিল্পী সেকেন্দার পাগলা (৫২), স্ত্রী ফেরেজা বেগম (৪৫) ও কন্যা তাছলিমা আকতার জান্নাতি খাতুনকে (২৫) মারপিটে গুর“তর আহত করেছে এলাকার প্রভাবশালী একটি মহল। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের। মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি।

এজাহার সূত্রে সরেজমিনে প্রকাশ, উপজেলার পবনাপুর ইউনিয়নের পূর্ব ফরিদপুর গ্রামের আগপাড়ার মৃত আজিজার রহমান গাছুর ছেলে বাউল শিল্পী সেকেন্দার পাগলার সাথে একই গ্রামের মৃত হযরত আলীর ছেলে আব্দুল হাই ওরফে হাইস গংদের সাথে দীর্ঘদিন থেকে পারিবারিক নানা বিষয়ে পূর্ব শত্র“তা চলে আসছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আব্দুল হাই ওরফে হাইস গংরাসহ ১০/১২ জনের একদল লোকজন লাঠি-সোডা ধারালো অত্র নিয়ে সেকেন্দার পাগলার বাড়ীতে ঢুকে অকর্থ্য ভাষায় গালমন্দ করে এলোপাথারী মারডাং শুরু করে। এ মারডাং-এ পলাশবাড়ী উপজেলা তাঁতীলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক বাউল শিল্পী সেকেন্দার পাগলা, স্ত্রী ফেরেজা বেগম ও কন্যা জান্নাতি খাতুনকে গুর“তর আহত হয়।

পরে স্থানীয়রা গুর“তর আহত সেকেন্দার পাগলাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে­ক্সে ভর্তি করে। ২ দিন পর ৭ সেপ্টেম্বর আহতের সহোদর ছোট তাঁতীলীগ পবনাপুর ইউনিয়ন সভাপতি ইসকেন্দার আলী অটোযোগে বাড়ী ফেরার পথে ফকিরহাট সড়কের কালারঘাট ব্রীজ নামক স্থানে রাস্তায় এরশাদ, হাইস ও তার লোকজন লাঠি, সোডা নিয়ে মারপিট করতে এলে ইসকেন্দার এ যাত্রায় পালিয়ে রক্ষা পায়।

এ ঘটনায় সেকেন্দার পাগলা বাদী হয়ে আব্দুল হাই ওরফে হাইসসহ এজাহার নামীয় ৮ জন এবং অজ্ঞাত ৩ জনকে আসামী পলাশবাড়ী থানায় একটি মামলা (নং-৪, তাং- ৬/০৯/১৭) দায়ের করেন। পরবর্তীতে আসামীরা জামিনে এসে এবং এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা তুলে নিতে বাদীকে চাপ প্রয়োগ ও নানা প্রকার ভয়ভীতি অব্যাহত রাখায় বাউল শিল্পী সেকেন্দার পাগলা বাড়ী ছেড়ে পলাশবাড়ীর বিভিন্ন আত্মীয়ের বাড়ীতে অবস্থান করছে। ফলে সে এবং তার পরিবার ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী পরিবারটি পুলিশ প্রশাসনসহ সংশি­ষ্ট কর্তৃপক্ষের জর“রী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য