দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বখতিয়ার আহম্মেদ কচিকে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের প্রতিবাদ ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবী জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা বিএনপি।

বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় জেল রোডস্থ জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবী জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা বিএনপির আহবায়ক ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব এজেডএম রেজওয়ানুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান ফ্যাসিষ্ট সরকার এক তরফাভাবে তথাকথিত ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছে। আজ বাংলাদেশে বলছে একদলীয় শাসন। চালসহ নিত্যা প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম উর্দ্ধগতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ দিশেহারা। নেই স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা, চলছে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নেই বাক স্বাধীনতা। সর্বোপরি রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কুটনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকতে দিনাজপুরসহ সারা বাংলাদেশে চলছে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা দায়ের। তারই অংশ হিসেবে গত ২৬-০৮-২০১৭ তারিখে দিনাজপুর কোতয়ালী থানার ১১৯ নং মামলার এজাহারে আসামী হিসেবে নাম না থাকা সত্বেও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বখতিয়ার আহম্মেদ কচিকে গ্রেফতারী পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এজেডএম রেজওয়ানুল হক বিএনপি নেতা বখতিয়ার আহম্মেদ কচিকে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ নিঃশর্ত মুক্তির দাবী জানান। বিএনপি চায় প্রকৃত দোষীদের বিচার হোক। কিন্তু কোন অভিযোগ ছাড়া অহেতুকভাবে কাউকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার অযৌক্তিক। তিনি সঠিক তদন্ত ছাড়াই বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার না করার আহবান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে দলের রংপুর বিভাগীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই সরকারের আমলে সাংবাদিব, বুদ্ধিজীবী কেউই নিরাপদ নয়, যার জ্বলন্ত প্রমান সাগর-রুনি হত্যাকান্ড। মেয়র বলের বলেন, আমরা আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিএনপি নেতা বখতিয়ার আহম্মেদ কচিসহ দলীয় নেতাকর্মীদের মুক্ত করবো।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব মো. লুৎফর রহমান মিন্টু, আলহাজ্ব রেজিনা ইসলাম, আলহাজ্ব আকতারুজ্জামান মিয়া, খালেকুজ্জামান বাবু, আলহাজ্ব মাহবুব আহম্মেদ, মো. মোকাররম হোসেন, আকতারুজ্জামান জুয়েল, জাহ্ঙ্গাীর আলম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি মো. মকশেদ আলী মঙ্গলিয়া, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল মোন্নাফ মুকুল, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. মকসেদুল ইসলাম টুটুলসহ অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক বখতিয়ার আহম্মেদ কচিকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে কোতয়ালী থানার প্রতিমা ভাংচুরের একটি মামলায় আকট দেখিয়ে জেল হাজতে প্রেরন করে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য