আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লামনিরহাটের পাটগ্রামে সফিয়া বেগম (৪২) নামের তিন সন্তানের এক জননী বাড়ির পাশের একটি গাছের গলায় দড়ির ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার
বাউরা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের হাউহাটি এলাকা থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।

সুফিয়া বেগম ওই এলাকার মজগার আলীর স্ত্রী। প্রত্যাক্ষদর্শী সূত্রে জানাগেছে,বুধবার সকালে মজগারের বাড়ির পাশে একটি গাছে গলায় রশি বাঁধা অবস্থায় সফিয়ার লাশ ঝুলতে দেখলে পাটগ্রাম থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে থানা পুলিশ সফিয়ার লাশ উদ্ধার করে থানায় নেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সফিয়ার এক প্রতিবেশি জানিয়েছেন, সফিয়া বেগমের নিজ নামে ২৫ শতাংশ জমি ছিল। এই জমিটুকু তার স্বামী মজগার বিক্রি করতে চাইলে সফিয়া আপত্তি জানায় এবং তার সন্তানদের নামে জমি লিখে দেয়। এতে মজগার হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে সফিয়াকে প্রায়ই শারীরিক নির্যাতন করে। সফিয়া বেগম মজগারের দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি গত ৬ মাস ধরে মজগারের বাড়িতে আছেন। সফিয়া নিজেও ২ মেয়ে ও ১ ছেলে সন্তান নিয়ে দ্বিতীয় বার মজগারের সঙ্গে বিয়েতে বসেন। সফিয়ার প্রথম স্বামীর নাম ফরিদ উদ্দীন। এদিকে এ ঘটনার পূর্ব থেকেই মজগার পলাতক বলে জানা গেছে।

বাউরা ইউপির ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য ফুলজান বেগম জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। লাশ থানায় নেয়া হয়েছে। থানা পুলিশ বিষয়টি দেখছেন। পাটগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অবনি শংকর কর জানান, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে সফিয়া আত্মহত্যা করেছেন। লাশ লালমনিরহাট মর্গে পাঠানো হবে। জমি-যায়গা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে স্বামী মজগারের সাথে ঝগড়া বিবাদ থেকে এই মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটতেছে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য