আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ সাদুল্যাপুর উপজেলায় বখাটেদের হাতে লাঞ্ছিত হয়ে ক্ষোভ আর অপমানে আত্মহত্যা করে মৃত্যুর পথ বেঁচে নিয়েছে এক স্কুলছাত্রী। উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের চক দুর্গাপুর গ্রামের মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আয়শা সিদ্দিকা ওরফে মিষ্টি (১৪) ওই গ্রামের মোস্তা মিয়ার মেয়ে ও পার্শ্ববর্তী মাদারহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

এঘটনায় পুলিশ রাতেই বখাটের সহযোগী আশরাফুল ইসলামকে আটক করেছে। তবে মূল অভিযুক্ত একই ইউনিয়নের মাদারহাট (জুগিবাড়ি) গ্রামের নুর“ল ইসলামের ছেলে বখাটে সোহেল মিয়া (২০) সহ তার অপর সহযোগিদের এখনও আটক করতে না পারায় ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন তার স্বজন, সহপাঠী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীরা। তারা অভিযুক্ত বখাটের অবিলম্বে গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন।

কিন্তু অভিযুক্ত বখাটে সোহেল পলাতক রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন। এদিকে জিঞ্জাসাবাদের জন্য বখাটে সোহেলের পিতা নুর“ল ইসলাম সরকার (৫৯) ও তার বড় ভাই রাসেল সরকার (২৩) কে পুলিশ বুধবার ভোর রাতে আটক করে সাদুল্লাপুর থানায় নিয়ে আসে। আটক বখাটে আশরাফুল ইসলাম (১৮) একই গ্রামের নুর“ল ইসলাম বুদা মিয়ার ছেলে ও মাদারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শি¶ার্থী।

পুলিশ জানায়, স্কুল যাওয়ার পথে আয়শা সিদ্দিকা মিষ্টিকে গত দুই বছর ধরে উত্যক্ত করে আসছে বখাটে সোহেল মিয়া। এনিয়ে এলাকায় ও বিদ্যালয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকও হয়েছে। ঘটনার দিন মঙ্গলবার বিকেলে আয়শা আকতার স্কুল ছুটি হলে সহপাঠীদের সাথে বাড়ি ফিরছিল।

পথে সোহেল ৪ জন সহযোগিসহ বিকেল সাড়ে চারটায় মাদারহাট খেয়াঘাট ব্রীজ এলাকায় তাদের পথরোধ করে তাকে (মিষ্টি) প্রেমের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সোহেল তার গালে ধাপ্পর মারে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এমনকি তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেয় বখাটে সোহেল।

এসময় তার অন্যান্য সহপাঠীদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন চলে এলে বখাটেরা পালিয়ে যায়। সেই অপমান সইতে না পেয়ে বাড়ির এসে সন্ধ্যায়র বাড়ির কাউকে কিছু না জানিয়ে সবার অজান্তে বিষপান করে। এ ঘটনায় সাদুল্যাপুর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য