ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার অরুণাচল প্রদেশের চাকমা-হাজং শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার প্রতিবাদে বনধ চলাকালে ভাঙচুর ও সহিংসতা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গতকাল (মঙ্গলবার) অখিল অরুণাচল প্রদেশ ছাত্র সংঘের (আপসু) ডাকে রাজ্যজুড়ে সর্বাত্মক বনধ পালিত হয়। রাজধানী ইটানগরে বনধ সমর্থকরা একাধিক বাস ও গাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের গাড়িতেও ভাঙচুর চালায়।

নমসই, চাঙ্গলাং ও অন্য কয়েকটি জেলাতেও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এদিন সমস্ত সরকারি দফতর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। সড়কে সরকারি ও বেসরকারি যানবাহনও চলাচল করেনি।

‘আপসু’ সভাপতি টোবোম দাই বলেন, ‘রাজ্যের মানুষের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে এভাবে শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার অধিকার কারো নেই।’

তারা ভূমিপুত্রদের স্বার্থ রক্ষায় যে কোনো লড়াইয়ের জন্য তৈরি বলেও টোবোম দাই বলেন।

এদিকে, নাগরিকত্ব ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তে বেঁকে বসেছেন অরুণাচল প্রদেশের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু। তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে চিঠি লিখে তার বিরোধিতার কথা জানিয়েছেন।

তার মতে, চাকমা-হাজং শরণার্থীদের অরুণাচল প্রদেশের নাগরিকত্ব দেয়া হলে এর ফল বিপরীত হবে। এতে কংগ্রেসের হাত শক্ত হওয়া ছাড়াও ভূমিপুত্র উপজাতিদের স্বার্থ বিঘ্নিত হবে হবে। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের ওই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনারও আহ্বান জানিয়েছেন।

রাজনাথ সিংহকে পাঠানো চিঠিতে পেমা খান্ডু বলেন, চাকমা- হাজংদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিলে ১৮৭৩ সালের ‘বেঙ্গল ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রেগুলেশন অ্যাক্ট’-এর দুই ও সাত নম্বর ধারা অমান্য করা হবে। যেখানে অরুণাচল প্রদেশের ভূমিপুত্র উপজাতিদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে বহিরাগতদের জমির অধিকার, সম্পত্তির অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার দেয়া যাবে না। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বহিরাগতদের অরুণাচলের সীমানায় ঢোকাও নিষেধ।

চাকমা-হাজংদের নাগরিকত্ব দেয়া হলে তাতে রাজ্যের জনবিন্যাস ও উপজাতি চরিত্রে আঘাত আসতে পারে বলেও মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

প্রসঙ্গত, চাকমারা হলেন বৌদ্ধ এবং হাজংরা হলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। ১৯৬৪/১৯৬৯ সাল নাগাদ চাকমা-হাজং সম্প্রদায়ের মানুষজন চট্টগ্রাম থেকে ভারতে আসেন। ওই সময় তারা হাজার পাঁচেক হলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা প্রায় এক লাখে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের ২০১৫ সালের দেয়া এক আদেশ মেনে তাদের নাগরিকত্ব দেয়ার উদ্যোগ নিতেই বিভিন্ন মহল থেকে বিরোধিতা শুরু হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য