তিব্বতের নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়ক চালু করেছে চীন।

তিব্বতের শাইগাস শহরের কেন্দ্রের সঙ্গে শাইগাস বিমানবন্দরকে যুক্ত করা ৪০ দশমিক চার কিলোমিটারের মহসড়কটি শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

২৫ মিটার প্রশস্ত এ মহাসড়কটি চালু হওয়ায় শহরটি থেকে বিমানবন্দরে যেতে আগের এক ঘন্টার জায়গায় এখন মাত্র ৩০ মিনিট লাগবে বলে জানা গেছে।

সংক্ষিপ্ত আরেকটি সড়ক চীনের এ জাতীয় মহাসড়কটিকে নেপাল সীমান্তের সঙ্গে যুক্ত করেছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, বেসামরিক ব্যবহারের পাশপাশি প্রয়োজনে সামরিক উদ্দেশ্যেও মহাসড়টি ব্যবহার করা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন চীনা বিশেষজ্ঞরা।

নতুন এ সড়কটিকে শাইগাস-লাসা রেলওয়ে লাইনের সমান্তরালে রেখে নির্মাণ করা হয়েছে এবং এটি শাইগাসে শহরের রিং রোডকে সাংহাই থেকে নেপাল সীমান্তের ঝাংমু পর্যন্ত ৫,৪৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ জি৩১৮ মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

জি৩১৮-র অংশ হিসেবে মহাসড়কটি সীমান্ত শহর ঝাংমুকে তিব্বতের রাজধানী লাসার সঙ্গে যুক্ত করেছে।

ভবিষ্যতে এটিকে চীন-নেপাল আন্তর্জাতিক রেলপথের সঙ্গেও যুক্ত করা যাবে বলে জানিয়েছেন সাংহাই ইনিস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সেন্টার ফর এশিয়া-প্যাসিফিকের পরিচালক ঝাও গানচেং।

নতুন অংশটির মাধ্যমে জি৩১৮ মহাসড়কটি একপাশে নেপালের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে, এর অপর অংশটি তিব্বতের নাইংচি শহরের সঙ্গে যুক্ত, যা ভারতের অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তবর্তী একটি শহর। মহাসড়কটির বিশাল একটি অংশ চীনের আন্তর্জাতিক সীমান্তের খুব কাছ দিয়ে গিয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘গ্লোবাল টাইমস’ বিশেষজ্ঞদের বরাতে জানিয়েছে, মহাসড়কটি দক্ষিণ এশিয়া একটি অর্থনৈতিক ও সামরিক রুট তৈরি করার ক্ষেত্রে চীনকে সক্ষম করে তুলেছে এবং নেপালের সঙ্গে একটি রেলপথ নির্মাণের পথকে সুগম করেছে।

ভৌগলিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য এই সড়কপথ ও রেলপথের বিস্তৃতি ঘটালে তা ভারত ও ভুটান হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য