দিনাজপুর সংবাদাতাঃ ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর দু’দিনব্যাপী আরডিআরএস বাংলাদেশ দিনাজপুর ইউনিটের অধীনে বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর ইউনিয়ন ফেডারেশনে ৫০ জন জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান ৭২ এর ডেমো কৃষক, যার মধ্যে ৪ জন নারী ্ও ৪৬ জন পুরুষ প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোচাগঞ্জ উপজেলার উপজেলা কৃষি অফিসার বাসুদেব রায়। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আরডিআরএস বাংলাদেশের কর্মসূচী ব্যবস্থাপক (মাঠ সমন্বয়) তপন কুমার সাহা, হারভেস্ট প্লাস প্রোগ্রাম-এর মোঃ রুহুল আমিন মন্ডল ও কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রবিউল আলম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা কৃষি অফিসার বাসুদেব রায় বলেন, বাংলাদেশের পাচ বছরের কম বয়সের ৪০ শতাংশ শিশু রয়েছে, এই বয়সের প্রায় ৪৪ শতাংশ শিশু অপুষ্টি ও জিংকের অভাবের ঝুকির মধ্যে আছে এবং ৬০ শতাংশ নারীও অপুষ্টিতে ভুগছেন ।

তিনি বাংলাদেশের মানুষকে বিশেষ করে ঠাকুরগাঁও জেলার মানষকে বেশি করে জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান ৬৪ এর চালের ভাত খাওয়াতে বলেছেন। এতে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, ম্যালেরিয়া এবং অন্যান্্য অপুষ্টি ও জিংকের অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ হবে এবং শিশূ গর্ভবতী নারী ও মাতৃত্বকালীন রোগের ঝুকি কমিয়ে নবজাতক ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস পাবে।

প্রশিক্ষণে আয়োজকরা জানান জিংক এমন একটি পুষ্টি উপাদান যার অভাবে বিভিন্ন রোগের লক্ষন প্রতিয়মান হয় যেমন ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি।

তাছাড়া বাংলাদেশে ৪০% এর অধিক শিশু জিংকের অভাবে খাটো হয়ে যাচ্ছে এবং শিশুকালে ও বয়সš্ধকিালে সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। স্বাভাবিক মানুষের দৈনিক জিংকের ঘাটতি ৪-১২মিঃ গ্রাঃ। জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান ৭২ তে প্রতি কেজি চাল ২৮ মিঃ গ্রাঃ জিংক রয়েছে। যদি একজন ব্যক্তি এই চালের ভাত গ্রহন করে তবে তার ঘাটতি ৬০-৮০ ভাগ কমে।

এরই ধারাহিকতায় ২০১৭ সালে বোরো মৌসুমে দিনাজপুর জেলায় আরডিআরএস বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক ধান গবেষনা ইনষ্টিটিউট এর হারভেস্ট প্লাস প্রোগ্রাম-এর সহায়তায় ১০৫০ জন কৃষকের মাঝে জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান ৬২ ও ব্রি ধান ৭২ বীজ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য