আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: প্রখর রোদ ও ভ্যাপস্যা গরমে ওষ্ঠাগত জনজিবন। টানা এক সপ্তাহের তপ্ত গরমে অতিষ্ট লালমনিরহাটের মানুষ।

ভ্যাপসা গরমের সাথে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুতের অব্যহত লোডশেডিং। সব মিলে জনজিবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তপ্ত রোদে। তপ্ত গরমে পিপাসার্ত মানুষের ভরসা ওয়াজেদ মিয়ার আখের রস। মেশিন মারা শেষ না হতেই ফুরিয়ে যাচ্ছে আখের রস। প্রতি গ্লাস বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা দামে।

এ ভাবে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে এ রস বিক্রি করেন কালীগঞ্জ উপজেলার বানিনগর কাজিরহাট এলাকার ওয়াজেদ মিয়া। ওয়াজেদ মিয়া জানান, আগে গ্রামে গ্রামে আখ বিক্রি করতেন। এখন মেশিনে আখের রস তৈরী করে পথে পথে পিপাসার্ত মানুষের মাঝে বিক্রি করছেন। দৈনিক বিক্রি হয় এক/দেড় হাজার টাকা।

গত এক সপ্তাহ থেকে গরমের কারনে বিক্রি বেড়েছে। খরচ বাদে ৪/৫ শত টাকা আয়ে চলে তার চার সদস্যের সংসার। বড় ছেলে বাদল মিয়া স্থানীয় উত্তর বাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও ছোট মেয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ৯ম শ্রেণীতে পড়ছে। ছেলে মেয়েদের শিক্ষিত করাই তার প্রধান লক্ষ বলে জানান ওয়াজেদ মিয়া।

স্ত্রী বাছিরন দিনভর বাড়িতে ক্রয় করে রাখা আখ গুলোর ছাল সড়ায়ে পরিস্কার করে রাখেন। সেই আখ শ্যালোমিশন চালিত গাড়িতে আখ মারাই মেশিনসহ বেড়িয়ে পড়েন ওয়াজেদ। ক্রেতারা চাওয়া মাত্রই আখ থেকে রস করে তুলে দেন ক্রেতার হাতে। চোখের সামনে পরিস্কার আখ থেকে স্বচ্ছ ও ঠান্ডা রস দেখে পিপাসার্তরা সংগ্রহ করে পিপাসা নিবারনের চেষ্টা চালাচ্ছে। তপ্ত রোদে পথিকরা পথের পাশে এমন আখের রস দেখে থমকে দাড়াচ্ছে, পিপাসা নিবারনে।

আদিতমারী মেডিকেল মোড়ে ওয়াজেদ মিয়ার আখের রস ক্রেতা পিপাসার্ত মিজানুর রহমান মিজান বলেন, কয়েক দিনের তপ্ত গরমে বার বার পিপাসা লাগছে। দুই গ্লাস আখের রসে কিছুটা পিপাসা নিবারন হলে আত্নতৃপ্তি লাগছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য