ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা গোষ্ঠী বিএই সিস্টেমসের কাছ থেকে ২৪টি অত্যাধুনিক টাইফুন জঙ্গি বিমান কিনতে চেয়ে লেটার অব ইন্টেন্টে স্বাক্ষর করেছে উপসাগরীয় দেশ কাতার।

এই পদক্ষেপ দোহার সঙ্গে সম্পর্কছিন্ন করা দেশগুলোকে ক্ষেপিয়ে তুলবে বলে ধারণা করছে রয়টার্স।

সন্ত্রাসবাদে সহযোগিতা ও ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের অজুহাতে চলতি বছরের ৫ জুন থেকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর ও বাহরাইন কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্কচ্ছেদ করে।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ কাতারের সঙ্গে আকাশ ও নৌ যোগাযোগও বন্ধ করে দেয় ওই দেশ চারটি ।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি থাকা কাতার তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তুরস্ক কাতারের সমর্থনে দেশটিতে থাকা তাদের ঘাঁটিতে আরও সৈন্য পাঠিয়েছে।

উপসাগরে চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই কাতারের এই যুদ্ধবিমান কেনার খবর এলো।

“লেটার অব ইন্টেন্টে সব আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতিসহ ২৪টি অত্যাধুনিক টাইফুন এয়ারক্রাফট কেনার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অভিপ্রায় প্রকাশ পেয়েছে,” রোববার এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানায় কাতার নিউজ এজেন্সি।

কাতারের প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী খালিদ বিন মোহাম্মদ আল আতিয়াহ ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফেলনের সঙ্গে এ সংক্রান্ত এক চুক্তি স্বাক্ষর করেন বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে।

পরে এক বিবৃতিতে বিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, “এটি হবে যুক্তরাজ্যের অন্যতম কৌশলগত অংশীদার কাতারের সঙ্গে প্রথম কোনো বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি। আমরা আরও আশা করছি এই চুক্তি উপসাগরীয় অঞ্চলে আমাদের সব মিত্রের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে।”

চুক্তির সব বিষয়ে আলোচনা শেষ হতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

বিএই, ফ্রান্সের এয়ারবাস ও ইতালির ফিনমেক্কানিকার যৌথ বিনিয়োগ প্রকল্প ইউরোফাইটার টাইফুন যুক্তরাজ্যে অন্তত ৪০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

কাতার এবং যুক্তরাজ্য কোনো পক্ষের বিবৃতিতেই জঙ্গি বিমান কিনতে কত খরচ হচ্ছে তা বলা হয়নি। এর আগে ২০১৪ সালে সৌদি আরবের কাছে ৪৪৩ কোটি পাউন্ডের বিনিময়ে ৭২টি টাইফুন জঙ্গি বিমান বেচতে সম্মত হয়েছিল বিএই। শনিবার লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে ফেলন বলেছিলেন, বিএই সিস্টেমস যেন আরও টাইফুন বেচতে পারে সেজন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে তার সরকার।

রয়টার্স বলছে, এ বছর টাইফুন তার ফরাসী প্রতিপক্ষ রাফায়েলের তুলনায় ক্রেতাদের কম আকৃ্ষ্ট করেছে। দেসু এভিয়েশনের রাফায়েল কিনতে এরই মধ্যে কাতার ও মিশর চুক্তি করেছে।

চলতি বছরের জুনে কাতার যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে এফ-১৫ জঙ্গিবিমান কিনতে ১২ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে; ৬ বিলিয়ন ডলারে ৭টি নৌযান কিনতে চুক্তি করেছে ইটালির সঙ্গেও।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য