মঞ্চ, টিভি নাটক, মডেলিং এবং সিনেমা- এ চার মাধ্যমেরই বাসিন্দা রুনা খান। ভার্সেটাইল অভিনেত্রী। যেকোনো চরিত্রেই দারুণ অভিনয় করেন। এ পর্যন্ত তার অভিনীত সব নাটক-সিনেমাতেই তিনি দেখিয়েছেন দুর্দান্ত অভিনয় কারিশমা। সে সুবাদে সাফল্য আর জনপ্রিয়তাকে করেছেন মুঠোবন্দি।

এবারের ঈদের নাটকে বিশেষ নজর কেড়েছেন এ অভিনেত্রী। এখন অপেক্ষায় আছেন অভিনীত তিনটি ছবি মুক্তির। এসবের মধ্যে বদরুল আনাম সৌদের ‘গহীন বালুচর’ এবং সাজেদুল আওয়ালের ‘ছিটকিনি’ ছবি দুটি সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে। আর জনপ্রিয় অভিনেতা তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় ‘হালদা’ ছবির কাজও শেষ হয়েছে ইতিমধ্যে।

ছবি তিনটির মধ্যে ‘গহীন বালুচর’-এর মুক্তির তারিখও ঠিক হয়ে গেছে। আগামি ২০শে অক্টোবর এটি মুক্তি পাবে। ছবিগুলো প্রসঙ্গে রুনা খান বলেন, প্রায় তিন বছর পর ‘ছিটকিনি’ ছবিটি সেন্সর ছাড়পত্র পেল। খবরটি শুনে খুব ভালো লাগছে। অনেক দিন অপেক্ষায় ছিলাম এমন একটি সংবাদ শোনার জন্য। ছবির শুটিং করেছি পঞ্চগড়ে গিয়ে। দিন-রাত সবাই অনেক পরিশ্রম করেছি ছবিটির জন্য।

প্রথম ছবি বলে নির্মাতা সাজেদুল আওয়াল মানের বিষয়ে কোনো ছাড় দিতে চাননি। এত কিছুর পর ছবি মুক্তি না পেলে সেটা হতো কষ্টের একটি বিষয়। ভিন্ন ধাঁচের এই ছবি কি দর্শক দেখতে পাবে না- যতবার এই প্রশ্ন উঠেছে, ততবারই মন খারাপ হয়েছে। এখন সেন্সর ছাড়পত্র পাওয়ায় সে দুশ্চিন্তা কেটে গেছে। ছবিটি ভালো লাগবে বলে আমি আশাবাদী। বদরুল আনাম সৌদের ‘গহীন বালুচর’ এবং তৌকীর আহমেদের ‘হালদা’ গৎবাঁধা ছবি থেকে একেবারে আলাদা মনে হয়েছে।

‘গহীন বালুচর’ ছবিতে আমার অভিনীত শামীমা চরিত্রটি সবার মনে দারুণ আঁচড় কাটবে বলে আশা করি। আর ‘হালদা’তে আমার অভিনীত জুঁই হচ্ছে এক প্রান্তিক নারীর চরিত্র। এ চরিত্র দুটিকে দর্শক অনেকদিন মনে রাখবেন বলেই আমার ধারণা। এ ছবি দুটি ছাড়াও মৃত্তিকা গুণের ‘কালো মেঘের ভেলা’ এবং পারভেজ আমিনের ‘ঘণ্টিঘর’ ছবিগুলোয় অভিনয় করেছি। এ তিনটি ছবি মুক্তির অপেক্ষায় থাকার পাশাপাশি রুনা খান এ সময়ে ব্যস্ত আছেন কয়েকটি টিভি ধারাবাহিকের অভিনয় নিয়ে।

এসবের মধ্যে বেশিরভাগই বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে। আমি এখন ব্যস্ত আছি ‘সং-সার’, ‘জলরঙ, ‘বৃষ্টিদের বাড়ি’, ‘লাইফ ইন এ মেট্রো’ ‘প্রেসিডেন্ট সিরাজুদ্দৌলা’, ‘বুবুনের সাত সতেরো’, ‘জোছনাময়ী’, ‘হাজার বত্রিশ’, ‘সাত ঘর এক উঠান’সহ আরও কয়েকটি নাটকের অভিনয় নিয়ে। ২০০২ সাল থেকে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের হয়ে বেশ কয়েকটি মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেছেন রুনা খান। এ দলের অন্যতম জনপ্রিয় নাটক ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’।

১৯৭৭ সালে প্রথম মঞ্চস্থ হয় নাটকটি। প্রায় ৪০০ মঞ্চায়ন হওয়ার পর নাটকটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৫ সালে নাটকটি আবার মঞ্চে আনে দলটি। রুনা খান এ নাটকের অন্যতম চরিত্র লাইলির রূপদান করে থাকেন। ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার জন্মের ছয় বছর আগে নাটকটির প্রথম মঞ্চায়ন হয়। লাইলি চরিত্রে বিভিন্ন সময় অভিনয় করেছেন সারা যাকের, নিমা রহমান, বিপাশা হায়াতের মতো গুণী অভিনেত্রীরা।

এ চরিত্রে অভিনয় করতে পারা আমার জীবনের সেরা অর্জন। এ সময়ে মঞ্চ নাটকে তার ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাইলে রুনা খান বলেন, এ মাধ্যমটিতে এখন আমার কোনো ব্যস্ততা নেই। তবে ‘দেওয়ান গাজীর কিস্সা’ কিংবা ‘নামগোত্রহীন-মান্টোর মেয়েরা’ নাটকের প্রদর্শনী হলে আবার আমায় মঞ্চে দেখা যাবে। এখন এ দুটি নাটকেই নিয়মিত অভিনয় করছি। অনেকেই বলেন চলচ্চিত্রে কাজের বিষয়ে আপনি খুব বাছ-বিচার করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে রুনা খান বলেন, আমার ধারণা, শুধু আমি নই, কম-বেশি সব শিল্পীই চান ভালো গল্প, চরিত্র ও নির্মাতার ছবিতে অভিনয় করতে।

আর আমি যে অনেক বাছ-বিচার করে কাজ করেছি এমনও নয়। যে ছবিগুলোতে অভিনয় করেছি সেগুলোর গল্প ভালো লেগেছে বলেই কাজগুলো করেছি। আর টিভি নাটকের ক্ষেত্রে? রুনা বলেন, আমার চেষ্টা থাকে অনেক কাজের বদলে অল্প ক’টি পছন্দসই গল্পের নাটকে কাজ করার। এই সময়ের টিভি নাটকের অবস্থা কেমন বলে মনে হচ্ছে জানতে চাইলে রুনা খান বলেন, ভালো-খারাপ মিলিয়েই চলছে এ মাধ্যমটি। তবে এখানকার অন্যতম বড় একটি সমস্যা হচ্ছে বাজেট। স্বল্প বাজেটের কারণে অনেক নির্মাতা চাইলেও ভালো নাটক নির্মাণ করতে পারছেন না। আমি মনে করি বিষয়টির দিকে সংশ্লিষ্টদের জরুরি ভিত্তিতে নজর দেয়া দরকার।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য