আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকেঃ আর কয়েকদিন বাদে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। এই উৎসবের আমেজ দেখা দিয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে। লালমনিরহাট শ্বারদীয় দুর্গোৎসবে ৪৩০টি স্থানে পূজামণ্ডপ তৈরী হবে। এরই মধ্যে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মূর্তি শিল্পীরা। রাত-দিন প্রতিমা তৈরিতে তারা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

কার চেয়ে কে বেশি আকর্ষণীয় মণ্ডপ তৈরি করবে তা নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন অনেকে। শিল্পীদের শৈল্পিক ছোঁয়ায় খড়, মাটি, পাট আর কাঁদায় তৈরি প্রতিমা উঠে দাঁড়াতে শুরু করেছে। শুধু বাকি পরিপাটি করে সাজানোর কাজটুকু। চলতি মাসের ২৬ সেপ্টেম্বর হতে ষষ্টি পূজার মাধ্যমে শুরু হবে সনাতন ধর্মের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব।

সরজমিন গিয়ে জানা গেছে, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও লালমনিরহাট পৌর শহরে সদর কালীবাড়ী, গোশালা বাজার, কাচারীবাজার, সাপটানাবাজার, থানাপাড়া, যুগীপাড়া, সাধুটারী, আদর্শপাড়া, রেলওয়ে, মিশন মোড় হিন্দুপাড়া, পুর্ব থানা পাড়া, নয়ারহাট, বানিয়ারদীঘ বিভিন্ন পুজা মন্দিরে স্থানীয় ও বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মৃৎ শিল্পীরা রাতদিন প্রতিমা তৈরীর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ওই সম্প্রদায় পাড়া মহল্লায় বাসা বাড়িতে পারিবারিক পুজা মন্ডবে হরেক রকম প্রতিমা তৈরী করছেন কারিগররা। এসব প্রতিমা তৈরীতে প্রতিমা কারিগররা বিভিন্ন দামে প্রতিমা তৈরীর চুক্তি করছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের সাথে।

শারদীয় এই দুর্গা উৎসবে এমন একটি প্রতিমা তৈরী করতে কেউ কেউ ব্যয় করছেন কয়েক লক্ষ টাকা। শারদীয় দূর্গা পুজা ঘিরে হরেক রকম ডিজাইনে কারুকার্য সহ প্রতিমার সমাপনি কাজ সারতে সময় লাগে প্রায় ৩-৪ মাস। মৃৎ শিল্পীরা বছরে বেশিভাগ সময় কাজ বিহীন অলস সময় যাপন করলেও বর্তমান সময়ের ৩/৪ মাস বিভিন্ন প্রতিমা তৈরীর কাজে নিয়োজিত থাকেন। বাপ দাদার সনাতন পেশা হিসাবে দীর্ঘ দিনের এই কর্ম জীবনের অনেক অজানা তথ্য তুলে ধরেন প্রদীপ কুমার ও দিলীপ কুমার।

প্রতিমা তৈরীর কারিগররা আরো জানায় এ অঞ্চলের শারদীয় মহা উৎসবে দূর্গা প্রতিমা তৈরীতে ঘরকুটা, বাশ, রশি ও মাটিসহ বিভিন্ন কাচামাল দিয়ে দুর্গা প্রতিমা কাঠামো তৈরীর কাজ প্রায় ৮০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু প্রতিমা গায়ে মাটির আস্তর শুকালে রংগের ডিজাইন ও কারুকার্য কাজ শুরু করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য