ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ তাদের পাশে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল (শক্রবার) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার বার্তায় এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি জাতিসংঘের আবেদনকে সমর্থন জানিয়েছেন তিনি।

মমতা বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের সাহায্যের জন্য জাতিসংঘের আবেদনকে আমরা সমর্থন করছি। আমাদের বিশ্বাস, সব সাধারণ মানুষ সন্ত্রাসী নয়। আমরা সত্যিই উদ্বিগ্ন।’

ভারতে কমপক্ষে ৪০ হাজার রোহিঙ্গা বাস করছেন বলে কেন্দ্রীয় সরকার মনে করছে। ভারতে আশ্রয় নেয়া এসব রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গত ৮ আগস্ট এ ব্যাপারে বিভিন্ন রাজ্যে আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের ওই নির্দেশ মানবে না বলে জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ওই পদক্ষেপকে ‘অমানবিক’ বলেও রাজ্য সরকার মন্তব্য করেছে। রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক এক শীর্ষ কর্মকর্তার মতে, রোহিঙ্গারা ‘মুসলিম’ বলেই কেন্দ্রীয় সরকার ওই পদক্ষেপ নিয়েছে।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে গত বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধের জন্য মিয়ানমার সরকারের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানানো হয়েছে। জাতিসংঘ এ ব্যাপারে সমস্ত রাজনৈতিক মতপার্থক্য সরিয়ে রেখে বিপন্ন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে সমগ্র আন্তর্জাতিক মহলকে তাদের জন্য চলতি মানবিক সহায়তা কর্মসূচি সমর্থনের ডাক দিয়েছে।

গত বুধবার জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের বর্তমান ট্র্যাজেডির ব্যাপারে আমাদের উদ্বেগ স্পষ্ট করেই জানিয়েছি। ওদের ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। আমরা যে খবর পাচ্ছি, সবাই যেসব ছবি দেখছি, তা হৃদয়বিদারক বললেও কম বলা হয়।’

এদিকে, উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বিএসপি প্রধান মায়াবতী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে নরম মনোভাব দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি এক আবেদনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারকে মানবতার খাতিরে কঠোর মনোভাব নেয়া উচিত নয় এবং এ নিয়ে কোনো রাজ্যকেও বাধ্য করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন।

মায়াবতী বলেন, মিয়ানমারে সহিংসতার জন্য লাখো রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন এবং কয়েক হাজার ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে শরণার্থী হয়ে আছেন। এ রকম পরিস্থিতিতে তাদের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের মনোভাব স্পষ্ট না হওয়ায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে মায়াবতী মন্তব্য করেন।

মিয়ানমার থেকে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ভারতে আশ্রয় দেয়ার দাবিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। আদালতের পক্ষ থেকে এ নিয়ে সরকারের কাছে জবাব তলব করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়য়ের পক্ষ থেকে আদালতে হলফনামা দিয়ে ‘রোহিঙ্গারা জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক সেজন্য তাদের আশ্রয় দেওয়া যাবে না’ বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু এদিন সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু তা অস্বীকার করেন।

গতকাল শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, ১৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টে সরকারের অবস্থান জানানো হবে। তিনি এ নিয়ে আর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য