আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফ’র ছোড়া পাথরে নিহত বাংলাদেশি রাখাল আজাহার আলীর লাশ ফেরত দিয়েছে ভারতীয় পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর জিরোপয়েন্ট দিয়ে পাটগ্রাম থানার ওসি (পরিদর্শক) অবনী শংকর করের কাছে নিহত আজাহারের লাশ হস্তান্তর করেন ভারতীয় কুচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কেশব দাস।

এসময় লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বুড়িমারী কোম্পানি কমান্ডার ফোরকানুল হক ও কুচবিহার-৬১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চ্যাংরাবান্ধা বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার ইন্সপেক্টর সেতারাম সিংহ উপস্থিত ছিলেন।

বিজিবি ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশি আজাহার আলীসহ ২৫ জনের একদল গরু পারাপারকারী রাখাল ভারতীয় গরু ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল সীমান্তের সানিয়াজান নদীর ওপর থাকা সানিয়াজান বেইলি ব্রিজের নিচ দিয়ে ভারতে বিনা পাসপোর্টে অনুপ্রবেশ করে অবস্থান নেয়।

সুযোগ বুঝে গত ১২ সেপ্টেম্বর গরু নিয়ে একই পথ দিয়ে গরু পারাপারকারী রাখালরা ব্রিজের নিচ দিয়ে দেশে ফেরার পথে ভারতীয় কুচবিহার ৬১-বিএসএফ ব্যাটালিয়নের হিমকুমারী ক্যাম্পের একটি টহল দল তাদের লক্ষ্য করে ককটেল ও পাথর নিক্ষেপ করে।

এতে গুরুতর অবস্থায় লোকমান হোসেনসহ অন্যরা পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও আজাহার আলী ঘটনাস্থলেই মারা যান। বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিহতের মরদেহ সানিয়াজান নদীর ওপর থাকা বেইলি ব্রিজের ভাটিতে কচুরিপানার ভেতর থেকে বিএসএফ উদ্ধার করে বিজিবিকে খবর দেয়। পরে ভারতীয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বিজিবি-বিএসএফ’র সহায়তায় ভারতীয় মেখলিগঞ্জ থানা পুলিশ আজাহারের লাশ উদ্ধার করে কুচবিহার জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টায় লাশ ফেরত দেয়।

পাটগ্রাম থানার ওসি (পরিদর্শক) অবনী শংকর কর বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নিহতের পরিবারের কাছে লাশ দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।’ এদিকে আজাহারের নিহতের ঘটনায় ভারতীয় কুচবিহার-৬১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ছি ছং ও লালমনিরহাট-১৫বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএসএফ’র ৬ সদস্য ও বিজিবি’র ৬ সদস্যের মধ্যে শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই বৈঠক বুড়িমারী স্থলবন্দর জিরোপয়েন্টে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি কড়া প্রতিবাদ করলে ভারতীয় বিএসএফ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেশ করে বলেন, ‘নিহত আজাহার আলী মদ্যপ অবস্থায় সানিয়াজান নদীতে ডুবে নিহত হয়েছে।

তাকে বিএসএফ কোনওভাবে নির্যাতন করেনি বলে দাবি করেন তিনি। লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল গোলাম মোর্শেদ বলেন, ‘ভারতীয় পুলিশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আজাহার আলীর মৃত্যু মদ্যপ অবস্থায় পানিতে ডুবে হয়েছে বলে পতাকা বৈঠকে বিএসএফ দাবি করেছে। তবে বিষয়টি আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের লাশ ভারতীয় পুলিশের মাধ্যমে বাংলাদেশি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বিএসএফ।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য