সংবাদ সম্মেলনঃ দিনাজপুর ঘোড়াঘাট উপজেলার ক্ষমতাসীন দলের দুই নেতা আসাদ্দুজ্জামান ভুট্টো ও আপন কবির ফিরোজ’র বিরুদ্ধে দলের প্রভাব খাটিয়ে নিরীহ মানুষকে সীমাহীন অত্যাচার নির্যাতন ও জুলুম করার অভিযোগ উঠেছে। ওই দুই নেতা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সাধারন মানুষের জমাজমি দখলসহ বিভিন্ন অপকর্ম ও অন্যায় অত্যাচার করছে।

বৃহস্পতিবার সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ঘোড়াঘাটের ওসমানপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সাব্বির আলী খাঁন উল্লেখিত ক্ষমতাসীন দলের দুই নেতার বিরুদ্ধে ভুমি দখল এবং নির্যাতন নিপিড়নের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ।

সংবাদ সম্মেলনকারী সাব্বির আলী খাঁন সাংবাদিকদের বলেন, ২০০৮ সালে ঘোড়াঘাটের চকবামুনিয়া বিশ্বনাথপুরসহ কয়েকটি মৌজার বিভিন্ন দাগে তার ২০ বিঘা জমি পৌর আঃলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান ভুট্টো ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ আপন কবীর ফিরোজের লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসী বাহিনী জোবর দখল করে নিয়েছে।

তিনি জানান, তাদের অনেক অত্যাচার নির্যাতন, জুলুম ও হত্যার হুমকী-ধুমকীর পর ও নিরুপায় হয়েই আজ আপনাদের মাধ্যমে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে নিজের জীবন এবং সহায় সম্পত্তি রক্ষার আবেদন করতে এসেছি। গত কয়েক বছর ধরে ঘোড়াঘাট এলাকায় দদার্ন্ড প্রতাপের সাথে তারা সাঙ্গ পাঙ্গো নিয়ে নিরহ মানুষের ভুমি জোবর দখল ও নির্যাতন নিপিড়ন চালাচ্ছে।

ওই দুই নেতার ক্যাডার বাহিনীর সদস্য মোঃ মিঠু, মোঃ মক্কু, মোঃ বাবলু, মোঃ আসিফ, মোঃ শাওন, মোঃ সোহাগ, মোঃ সালাম, মোঃ হারুন, মোঃ বাচ্চু, মোঃ মনসুর, মোঃ আব্দুল আজিজ, মোঃ রাকিব ও মোঃ হানিফের অত্যাচারে এলাকার নিরীহ মানুষ জনেরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। নিষ্ঠুর নির্যাতন ও জীবন হারানোর ভয়ে এই অত্যাচারী বাহিনী বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পর্যন্ত করেনা।

আমি তাদের বিরুদ্ধে ঘোড়াঘাট থানায় অভিযোগ করেও কোন সমাধান পায়নি বরঞ্চ অত্যাচার নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়েছে। তিনিবলেন, জানিনা আজ সংবাদ সম্মেলন করে ফিরে গিয়ে আমি বেঁচে থাকতে পারবো কিনা তাতেও আমার সন্দেহ হচ্ছে।

আমার জমি ছাড়াও তারা যাদের নির্যাতন করেছে তাদের কয়েকজনের চিত্র তুলে ধরছি। তারা হলেন, স্যাটেলম্যান অফিসার শ্রী আনন্দ মোহনের নিকট চাঁদার দাবীতে তাকে নির্যাতন করে, ওসমানপুর বাজারে প্রকাশ্যে দিবালোকে মহসিন ও সুজার সঙ্গে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ৫টি মোটরসাইকেল প্রকাশ্যে আগুন জ্বালিয়ে দেয়, মজিদুল মাষ্টারের বউ তাদের বিরদ্ধে চাঁদাবাজীর মামলা করেও রেহাই পায়নি, তারা সাগরপুরের আশরাফকে নির্মম ভাবে মেরে হাত-পা ভেঙ্গে দেয়, পশ্চিম বানিয়াল মসজিদের পুকুর জোবরদখর করে নেয়, সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আনারুল ইসলাম কেও তারা নির্যাতনে করেছে। এছাড়াও তারা অত্র এলাকার বহু মানুষকে নির্যাতন করে জমি দখল করে নিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে হারানো ২০বিঘা জমি সরকারের উধ্বর্তন মহলের সহযোগীতায় তিনি ফিরে পেতে চান এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবী করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য