আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ এতদিন এসি রুমে থাকার পর বাড়িতে এসে গরমে ছটফট ও কান্না করছিল আলাদা হওয়া শিশু তোফা-তহুরা। এ কারণে তোফা-তহুরার জন্য বাড়িতে লাগানো হয়েছে সৌরবিদ্যুৎ। সৌরবিদ্যুতের সাহায্যে চালানো ফ্যানের বাতাস পেয়ে এখন আর কান্নাকাটি নেই তোফা-তহুরার।

মঙ্গলবার সকালে বেসরকারি সংগঠন ফ্রেন্ডশিপের সহায়তায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম গোলাম কিবরিয়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের কাশদহ গ্রামে তোফা ও তহুরার নানার বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ লাগিয়ে দিয়েছে।

এসময় সুন্দরগঞ্জ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নবী সরকার, ফ্রেন্ডশিপ সংগঠনের জেলা সমন্বয়কারী আব্দুস সালাম, এসইডি কর্মসূচির ইনচার্জ বিজয় কুমার উপস্থিত ছিলেন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম গোলাম কিবরিয়া জানান, তোফা-তহুরা কোমড়ে জোড়া লাগানো অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেন। গত ১ আগস্ট ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রপচারের মাধ্যমে তাদের আলাদা করা হয়। ১ মাস ১০ দিন চিকিৎসা শেষে ১০ সেপ্টেম্বর রাতে তোফা-তহুরা তার নানার বাড়িতে ফিরে আসে। কিন্তু সেখানে বিদ্যুৎ না থাকায় তারা গরমে ছটফট ও কান্না করছিল। সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল তাদের দেখতে গিয়ে সৌরবিদ্যুৎ দেওয়ার কথা বলেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশ মত তোফা-তহুরার বাড়িতে সৌর বিদ্যুৎ লাগানো হয়েছে।

ফ্র্রেন্ডশিপ সংগঠনের জেলা সমন্বয়কারী আব্দুস সালাম জানান, তোফা-তহুরার জন্য তার নানার বাড়িতে বিনামূল্যে সৌরবিদ্যুৎ লাগানো হয়েছে। ৫০ ওয়াটের সোলার প্যানেলের সঙ্গে ৩টি বাল্ব ও একটি ফ্যানও দেওয়া হয়েছে।

বাড়িতে সোলার প্যানেল লাগানোর পর তোফা-তহুরার মা শাহিদা বেগম বলেন, ‘ঢাকা থেকে বাড়িতে আসার পর থেকে তারা গরমে ছটফট ও কান্না করছিল। ফ্যানের বাতাস পাওয়ার পর তারা এখন আর কান্না করছে না। হাত-পা নেড়ে খেলা করছে।’

গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা মেডিক্যািল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে একটি এ্যাম্বুলেন্সে করে বাবা রাজু মিয়া, মা শাহিদা বেগম ও নানা শহিদুল ইসলামের কোলে করে তোফা-তহুরা বাড়িতে পৌঁছেছে।

এদিকে, তোফা-তহুরাকে এক নজর দেখার জন্য সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত বাড়িতে পাড়া-প্রতিবেশিরা ভিড় করেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য