দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর রামসাগর এলাকায় হাজি দিঘীর মোড়ে ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধায় ডিবি পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে সংর্ঘষে ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী ইট ও গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করে রেখেছে।

এলাকাবাসি সুত্রে জানা যায়, ডিবি পুলিশ রামসাগর এলাকায় গিয়ে সাধারন মানুষকে টাকার জন্য মাঝে মধ্যে নাজেহাল করে।

আজ রবিবার বিকেলে ৫টায় মাদক ব্যবসাকে না বলে শপথ গ্রহন করা মহব্বতপুর গ্রামের তসলিমউদ্দিনের ছেলে নুরুজ্জামান (২২) কে নিয়ে ঘটনার সুত্রপাত ঘটে। সার কারখানা এলাকায় নুরুজ্জামান (২২) মহিষ চরানোর সময় ডিবি পুলিশের নজরে পড়ে।

এলাকাবাসি জানায়, ৫ জন ডিবি পুলিশ তাকে জোড় করে গাড়ীতে তুলতে চায় নয়তো পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করে।

সে গাড়ীতে উঠতে এবং টাকা দিতে অস্বীকার করায় ঘটনা স্থলে ডিবি পুলিশ তাকে মারধর শুরু করে। ঘটনা দেখে ওই এলাকার কিছু লোক এগিয়ে এসে ঘটনা কারান জানতে পেরে ৫ জন ডিবি পুলিশকে উল্টো মারধর করে। অবস্থা বেগতিক দেখে ডিবি পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

সন্ধায় ডিবি পুলিশ ১৫ জন সঙ্গী ফোর্স নিয়ে উক্ত এলাকায় এসে নারী শিশু বিবেচনা না করে এলোপাথারি লাঠিচার্জ শুরু করে। এই ঘটনায় রামসাগর এলাকার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে ডিবি পুলিশর উপর হামলা চালায়।

এই সংঘর্ষে নারী পুরুষসহ ১০ জন এলাকাবাসী ও ৪ জন ডিবি পুলিশ আহত হয়েছেন।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে ডিবি পুলিশ সঙ্গী ফোর্সসহ সেখান থেকে আবারও পালিয়ে যায়।

সদর উপজেলার ৬ নং আউলিয়াপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশসহ ১৪ জনের আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মাহফুজ জামান জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে গ্রামের নারী-পুরুষকে প্রায় এসে মারধর করে ডিবি পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় গ্রামের সবাই আজ রাস্তায় এসে তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছে।

এ ব্যাপারে জানতে ডিবি পুলিশের ওসি মনিরুজ্জামানের ফোনে একাধিকবার কল দিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফোনে রিং হলে বার বার ফোন কেটে দেন তিনি।

উক্ত ঘটনায় রামসাগর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য