একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সংসদীয় আসন-৯ দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা) এ মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতাদের ও সাধারণ জণগনের সমর্থন পেতে প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নানা তৎপরতা চালাচ্ছেন। অনেকেই কেন্দ্রের সবুজ সংকেতের জন্য সিনিয়র নেতাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় তৃণমুল নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, পোস্টার, লিফলেট ও বিলবোর্ড এবং জাতীয় শোক দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলির শুভেচ্ছা ব্যানার দিয়ে জনসাধারণের মাঝে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন।

এদের মধ্যে এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী পুনরায় মনোনয়ন প্রাপ্তির প্রত্যাশা করছেন। তার পক্ষে নেতাকর্মীরা নিয়মিত দলীয় কর্মসূচি ছাড়াও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করায় সাধারণ জণগন ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তার প্রতি বেশ দূর্বল। তিনি মনোনয়ন পেলে পুনরায় জয়লাভের সম্ভাবনা বেশি। তার জনপ্রিয়তা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আহসানুল হক উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে ঘুরে তাঁর (পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী) পক্ষে কাজ শুরু করেছেন। অপরদিকে সাবেক হুইপ ও কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. মিজানুর রহমান মানু নির্বাচনী আলোচনায় রয়েছেন।

তিনিও নিয়মিত নিজ গ্রুপের দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চললেও তার তেমন জনপ্রিয়তা নাই। ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে পদত্যাগ করে নৌকার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে টিভি মার্কা নিয়ে নির্বাচন করে এই আসনে মাত্র সাড়ে ৪ হাজার ভোট পাওয়ায় তার জনপ্রিয়তায় ধস নামে। সেসময় দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বক্তব্য দেয়ার কারণে নেতাকর্মীরা তার উপর ক্ষুদ্ধ। বর্তমানে সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতাকর্মীরা তাকে সহজ ভাবে মেনে নিবেনা।

অপরদিকে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ২০০১ সালের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়া ২০০৬ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রাথী হিসাবে ডাব মার্কা নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হলেও দলীয় নেতাকর্মীরা তার সঙ্গ না ছেড়ে তাকে অকুন্ঠ সমর্থন দেয়ায় দল তাকে পুনরায় ২০০৮ সালে মনোনয়ন দেয়। তবে তিনি আবারও মনোনয়ন প্রাপ্তির আশায় মাঠে-ময়দানে নেতাকমীদের সাথে মতবিনিময় করছেন। বিএনপিতে তার আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা। তিনি এই আসনের বিভিন্ন হাটে-বাজারে প্রায় প্রতিদিন দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে থাকায় নেতাকর্মীরা তার প্রতি বিশ্বস্থ।

এছাড়াও ২০০৬ সালে ধানের শীষ মার্কা ও ২০০৮ সালে দেওয়াল ঘড়ি মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি মোঃ হাফিজুর রহমান দলীয় মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তার ঘনিষ্টজনেরা জানিয়েছেন। তবে তার জনপ্রিয়তা শুন্যের কোঠায়। এক সময় এলাকায় সেমাই,চিনি,কাপড় দিয়ে বিএনপিরসহ অন্যান্য দলের সুবিধাবাদি লোকজনকে তার পক্ষে টানলেও এখন সেই লোকগুলি সমাজে হেয় হয়ে পড়েছে। এছাড়াও চিরিরবন্দর আমেনা বাকী রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও ঢাকা ল্যাব এইড হাসপাতালের অর্থপেডিক্স বিশেষজ্ঞ মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডাঃ এম আমজাদ হোসেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে তদ্বির শুরু ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন। তার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ থাকায় সাধারণ জণগন তার উপর অনেকটা নাখোশ।

উপজেলা আওয়ামীলীগ, সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মিরা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর বাইরে অন্য কাউকে মেনেই নেবেনা বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। এলাকার মুরব্বি গোছের লোকেরা জানান বিএনপির আখতারুজ্জামান মিয়া ও আওয়ামীলীগের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর মধ্যেই নির্বাচনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। যে দলের হোক অন্য কোন প্রার্থী মাঠে সুবিধা করতে পারবেনা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য