তৎকালীণ জমিদার শ্রীশ্রী জয় গোপাল গোস্বামী আড়াই’শ বছর পূর্বে ১৮৪৬ সালে নির্মাণ করেন ঐতিহাসিক রাধা-কৃষ্ণ একটি মন্দির। পরবর্তীতে তিনি তার গুরুদেব গোলক ধামা শ্রীশ্রী গোপাল কৃষ্ণ গোস্বামীর নামে মন্দিরটি উৎসর্গ করে দেন। ইতিহাস-ঐতিহ্য’র পুরনো এই মন্দিরটি কালের স্বাক্ষী হয়ে আজো দাঁড়িয়ে আছে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাংগা ইউনিয়নের করতোয়া নদীল তীরে শালডাংগা গ্রামে।

ঐতিহাসিক এই মন্দিরটি দেখতে দেশ বিদেশের ভক্তবৃন্দরাও ছুটে আসতো এখানে। ভক্তদের পদ চারণায় মুখরিত থাকতো মন্দির প্রাঙ্গন। ফলে শতবছর পূর্বে এক সময় ভারতের কুচবিহার থেকেও পরিচালনা করা হত মন্দিরের কার্যক্রম। নির্মাণ শৈলীর এই মন্দিরটির জৌলসের আকর্ষনে দেশের অধিকাংশ জেলার ভক্তবৃন্দ ছুটে এসে রাঁধা-কৃষ্ণের পূজা-অর্চনা করত নিয়োমিত। কিন্তু কালের পরিক্রমায় মন্দিরটি হারিয়ে যেতে বসেছে তার ঐতিহ্য।

জানা যায়, মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা জমিদার জয় গোপাল তৎকালীণ সময়ে প্রায় ৫০/৬০ একর জমি দান করেন মন্দিরের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। এরপর প্রায় দু’শ বছর পূর্বেই তিনি চলে যান ভারত রাজ্যে। দেশ স্বাধীনের পর ভক্তদের আসা-যাওয়া কমে যাওয়ায় মন্দিরটির কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে যায়। ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে ধাপিত হতে থাকে মন্দিরটি। ভূমিকম্পের ফলে মন্দিরের ৪টি প্রবেশ পথের মধ্যে ৩টি পথেই মাটির নিচে তলিয়ে যায়। পুরনো নির্মাণ শৈলীগুলোও আস্তে আস্তে খসে পড়তে থাকে।

দীর্ঘদিন অযত্ন আর অবহেলায় এখন মন্দিরটি ধ্বংসের মুখে। মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক যাদব কুমার রায় জানান, মন্দিরের কিছু জমি ঘাষ হয়ে গেলেও শালডাংগা হাট-বাজারসহ প্রায় সব জমিই বেদখল হয়ে যায় স্থানীয়দের মাঝে। বর্তমানে মাত্র ২৫ শতাংশ জমির উপর দাঁড়িয়ে আছে জরাজীর্ন অবস্থায় ঐতিহাসিক এই মন্দিরটি। মন্দিরটির পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ ও ভক্তবৃন্দে বর্তমান সরকারের প্রতি আবেদন ইতিহাস ঐতিহ্য’র ঐতিহাসিক এই মন্দিরটি রক্ষায় প্রত্নতত্ত বিভাগে হস্তান্তর করা হোক।

এ বিষয়ে শালডাংগা ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান চৌধুরী মাসুম জানান, কালের স্বাক্ষী এই মন্দিরটি রক্ষা করা প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক অমর কৃষ্ণ মন্ডল মন্দিরটি পরিদর্শন করে মন্দিরের চারিদিকে প্রাচীরসহ কিছু অনুদান দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য