কিউবায় আঘাত হানার পর ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ইরমার চোখ রাঙানিতে কয়েক লাখ বাসিন্দাকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ।

সপ্তাহব্যাপী ক্যারিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানির পর পাঁচ মাত্রার এই ঘূর্ণিঝড়টি শুক্রবার কিউবাতে আছড়ে পড়ে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

গত এক শতাব্দির মধ্যে আটলান্টিক মহাসাগরে সৃষ্ট সবচেয়ে শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়টি রোববার স্থানীয় সময় সকালে ফ্লোরিডায় আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়াবিদরা।

তীব্র বাতাস ও বন্যার মাধ্যমে ইরমা যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ বৃহত্তম এই রাজ্যটিতে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে আসছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রয়টার্স বলছে, কর্তৃপক্ষের নির্দেশের পর মিয়ামির আশপাশসহ অনেক এলাকা থেকে ব্যাপক অপসারণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে; কিন্তু সড়কে অসংখ্য গতিরোধক থাকার পাশাপাশি জ্বালানি সংকট এবং বৃদ্ধদের অবসরকালীন গন্তব্যে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় দ্রুত সবাইকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

সবাইকে সতর্ক করে ফ্লোরিডার গভর্নর রিক স্কট বলেছেন,“আমাদের সময় কম; আপনি যদি খালি করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া অঞ্চলগুলোর মধ্যে থাকেন, তাহলে এখনি চলে যান। এটা এমন এক সর্বনাশা ঝড় হতে যাচ্ছে, যা আমাদের রাজ্য আগে দেখেনি।”

উপকূল থেকে উপকূলে এই ঝড় প্রভাব ফেলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফ্লোরিডার জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, রাজ্যের ২৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৫৬ লাখ লোককে সরে যেতে বলা হয়েছে।

ইরমাকে ‘ঐতিহাসিক ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষমতাসম্পন্ন ঝড়’ অভিহিত করে এক ভিডিওবার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প জনগণকে সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা মেনে চলতে অনুরোধ করেছেন।

ফ্লোরিডার পাম বীচে ট্রাম্পের রিসোর্ট মার-আ-লগো খালি করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘন্টায় ২৫০ কিলোমিটার গতিবেগের বাতাস নিয়ে ইরমা এখন চার মাত্রার ঝড়ে পরিণত হয়ে মিয়ামির ৪৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে অবস্থান করছে বলে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের (এনএইচএস) সর্বশেষ আবহাওয়া বার্তায় জানানো হয়।

ঝড়টি পুনরায় শক্তি অর্জন করে পাঁচ মাত্রার হারিকেন হিসেবেই ফ্লোরিডার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আছড়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, এসময় বাতাসের গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার।

এনএইচএসের স্কেল অনুযায়ী, পাঁচ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ই সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়। ১৮৫১ সালের পর থেকে তিনবার এই ধরণের পাঁচ মাত্রার ঝড় যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হেনেছে।

সর্বশেষ ১৯৯২ সালে যে পাঁচ মাত্রার হারিকেন অ্যান্ড্রুর দেখা মিলেছিল ইরমা তার চেয়েও অনেক অনেক শক্তিশালী বলে ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

শক্তিশালী এই ঝড়ের কারণে কিউবার উত্তর উপকূল এবং মধ্য ও উত্তরপশ্চিম বাহামায় ১০ ফিট উচ্চতার ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে বলে আবহাওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে।

শুক্রবার মধ্যরাতে কিউবার সিয়েগো দে আভিলাতে ইরমা আঘাত হানার পর উত্তরের কেন্দ্রীয় উপকূল এলাকার চিত্র ধীরে ধীরে ক্যারিবীয় অন্য অঞ্চলগুলোর ভূতুড়ে এলাকার মত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সন্ধ্যার সংবাদে উত্তাল সমুদ্র, ধূসর আকাশ, ভারী বৃষ্টি, নুয়ে পড়া পাম গাছ, উপকূলে আছড়ে পড়া বিশাল বিশাল ঢেউ এবং অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার খবর দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলছেন, উত্তর উপকূলের পশ্চিম বরাবর সানক্তি স্পিরিচাস ও ভিলা ক্লারা প্রদেশের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ইরমার ধ্বংসযজ্ঞ শনিবার সকালে আরও স্পষ্ট হবে।

এরপর এটি উত্তরদিক বরাবর ফ্লোরিডার দিকে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পথে ৫০টিরও বেশি হোটেল ও চমৎকার সমুদ্রতীর আছে, যেগুলো কিউবার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য