মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে শুক্রবার প্রতিবাদ বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে জম্মু-কাশ্মিরের বিভিন্ন এলাকা। এদিন শ্রীনগর, ত্রাল, সোপর, পামপোর, অনন্তনাগসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার জুমা নামাজ শেষে অনন্তনাগ জেলায় বিক্ষোভরত জনতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশ গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে দু’জন কর্মকর্তাসহ ছয় পুলিশ আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যদের শ্রীনগর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, বিক্ষোভকারী জনতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশ কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইউসুফকে উত্তেজিত জনতা মারধর করে ও তার বুলেটপ্রুফ গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

জুমা নামাজ শেষে বিপুলসংখ্যক প্রতিবাদী জনতা বিক্ষোভে অংশ নিলে পুলিশ তাদের বাধা দেয় ও সেখান থেকে চলে যেতে বলে। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটিয়ে মারমুখী জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়।

রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যা বন্ধের দাবি ও নির্যাতনের প্রতিবাদে গতকাল উত্তর কাশ্মিরের বারামুল্লার চোরা সোপর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলে শামিল হন প্রতিবাদী জনতা। তারা বিভিন্ন লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড বহন করে মিয়ানমার বিরোধী স্লোগান দেন।

এদিকে, আজ (শনিবার) সকাল থেকে উত্তর কাশ্মিরের সোপর এলাকায় গেরিলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে।

অন্যদিকে, আজ দক্ষিণ কাশ্মিরের সোপিয়ান ও কুলগাম জেলার ২০ টির ও বেশি গ্রাম ঘিরে ফেলে সেনাবাহিনী, আধা সামরিক বাহিনী ও স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। কর্মকর্তা সূত্রে প্রকাশ, ওই এলাকায় গেরিলারা লুকিয়ে আছে এমন খবরের ভিত্তিতে সেখানে বড় ধরণের ওই ঘেরাও ও তল্লাশি অভিযান চলছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য