চীন এবং পাকিস্তানের সঙ্গে একযোগে দুই ফ্রন্টে যুদ্ধের আশংকা নাকচ করেননি ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত। এ ছাড়া, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় বা পরমাণুঅস্ত্রধর প্রতিবেশীদের মধ্যে যুদ্ধ হতে পারে না বলে প্রচলিত কথাও নাকচ করে দেন তিনি।

নয়াদিল্লিতে সেন্টার ফর ল্যান্ড ওয়ারফেয়ার স্টাডিজ আয়োজিত সেনিমারে এসব কথা বলেন জেনারেল রাওয়াত। চীন ধীরে ধীরে ভারতের ভূমি দখল করছে এবং নয়াদিল্লির ধৈর্যের চূড়ান্ত পরীক্ষা করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ভারতকে এ বিষয়ে মাথা ঘামাতে হবে এবং ধীরে ধীরে এ প্রক্রিয়া যুদ্ধের রূপ নিতে পারে সে জন্য নয়াদিল্লিকে প্রস্তুত থাকতে হবে বলেও জানান তিনি।

হিমালয়ের দূরবর্তী মালভূমি ডোকলামের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘ টানাপড়েন চলছে। ভারতের মিত্রদেশ ভুটানও এর ওপর অধিকার দাবি করছে। এ টানাপড়েনকে কেন্দ্র করে ১৯৬২ সালে চীন-ভারত যুদ্ধ হয়েছিল এবং এ যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছিল চীন।

ভারতীয় সেনাপ্রধান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, চীন-ভারত চলমান উত্তেজনা ধীরে ধীরে উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তে যুদ্ধের রূপ নিতে পারে। দুই মাস আগে এ উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছেছিল।

চীনে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের অবকাশে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের মাত্র দু’দিনের মাথায় এ মন্তব্য করলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান।

তিনি আরো বলেন, চীনের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা পাকিস্তানকে একভাবে সহায়তা করছে। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান প্রক্সি যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। প্রক্সি যুদ্ধের কারণে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রতিবেশীর সঙ্গে লড়াইয়ের আশংকা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। অবশ্য এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু আর বলেননি তিনি।

এ ছাড়া, তিনি বলেন, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে বিরাজমান পার্থক্যের ক্ষেত্রে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হওয়া সম্ভব নয়। এর কারণও ব্যাখ্যা করেন তিনি। তিনি বলেন, পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ মনে করে, ভারত তাদের দেশকে ভেঙ্গে টুকরা টুকরা করতে চাইছে। ভারতের পশ্চিমের প্রতিবেশীর মধ্যে এ প্রচারণা দীর্ঘদিন ধরে চলছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাকিস্তানিরা মনে করে ভারত তাদের দীর্ঘদিনের শত্রু এবং তাদের এ ধারণা বজায় থাকবে।

কাশ্মির চলমান সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মির নিয়ে দেশদু’টির মধ্যে বহুবছর ধরে বিরোধ চলছে এবং দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলটি স্বাধীন হতে বা পাকিস্তানের সঙ্গে একত্রিত হতে চাইছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য