দিনাজপুর সংবাদাতাঃ উত্তরবঙ্গে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার বাজার দিনাজপুরে বিগত বছরের তুলনায় এবারের কুরবানি ঈদে অর্ধেক চামড়াও সংগ্রহ করতে পারেনি ব্যবসায়ীরা। ট্যানারী মালিকদের কাছ থেকে বকেয়া টাকা না পাওয়ায় পুর্জির অভাব ও বাজারে কাঙ্খিত চামড়া না আসায় তারা এবারে তেমন চামড়া কিনতে পারেননি। আর কেনা দামের চেয়ে বাজারে চামড়ার দাম কম থাকায় আর্থিকভাবে লোকসানের মুখে পড়েছেন দিনাজপুর অঞ্চলের চামড়া ব্যবসায়ীরা।

দিনাজপুর শহরের রামনগরে অবস্থিত উত্তরবঙ্গে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার বাজারে প্রতিবছর শুধুমাত্র কুরবানিতেই ৪০ হাজার পিস গরু ও ৩০ হাজার পিস ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়। কিন্তু এবারে এর চিত্র একেবারেই ভিন্ন। এবার গত বছরের তুলনায় অর্ধেক চামড়াও কিনতে পারেননি এই বাজারের চামড়া ব্যবসায়ীরা।

দিনাজপুর চামড়া ব্যবসায়ী মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আকতার আজিজ জানান, দিনাজপুর চামড়া বাজারের দুই শতাধিক চামড়া ব্যবসায়ী কুরবানির দিন থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত এই পাঁচ দিনে ২২ হাজার পিস গরুর চামড়া ও ১৫-১৬ হাজার পিস ছাগলের চামড়া সংগ্রহ করেছেন।

ট্যানারী মালিকদের কাছে গত দু’বছরের বকেয়া ১০ কোটি টাকা পায়নি ব্যবসায়ীরা। যা কিছু পেয়েছে তা একেবারেই সামান্য। ফলে পুঁিজর অভাবে অনেকেই চামড়া কিনতে পারেননি। তাছাড়া ব্যবসায়ীদের কাছে টাকা নেই এমন খবরে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বাজারে চামড়া নিয়ে আসেনি। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা লবন দিয়ে চামড়া সংরক্ষন করে রেখেছে। দাম বৃদ্ধি হলে পরবর্তিতে হয়তবা চামড়া বাজারে নিয়ে আসবে। অন্যথায় তারা এই চামড়া ভারতে পাচার করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

আকতার আজিজ আরো জানান, বন্যার কারণে এবার অনেকেই কুরবানি দিতে পারেননি। আর এ কারণে বাজারে চামড়া কম আমদানি হয়েছে। কুরবানির দিন বিকেল থেকে দিনাজপুরের রামনগর চামড়ার বাজারে ভিড় থাকলেরও গত ৩/৪ দিন ধরে কোন ভিড় নেই। পুরো চামড়ার বাজার ফাঁকা। অন্যান্য বার ঈদের দিন থেকে ৫/৬ দিন পর্যন্ত বাজারে ভিড় থাকলেও এবারে কুরবানির দিন একটু ভিড় ছিল। পরের দিন থেকে বাজার একেবারেই ফাঁকা বলে জানান তিনি।

রামনাগর বাজারের চামড়া ব্যবসায়ী মো. আবুল খায়ের জানান, তিনি ট্যানারী মালিকদের নিকট থেকে বকেয়া টাকার ১০ ভাগ পেয়েছেন। এ কারণে তিনি কাঙ্খিত চামড়া কিনতে পারেননি। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়ায় লবন দিয়ে রেখে দিয়েছে। দাম বৃদ্ধি পেলে এখানে নিয়ে আসবে, অন্যথায় তারা এই চামড়া ভারতে পাচার করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি। পাচাররোধে চামড়া ব্যবসায়ীদের বকেয়া টাকা দ্রুত পরিশোধ করা উচিত বলে জানান তিনি।

এদিকে এবারে চামড়া কিনে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। এবারে কুরবানিতে গরুর চামড়া প্রতিপিস প্রকার ভেদে তিনশ’ টাকা হতে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। আর ছাগলের চামড়া প্রতি পিস ২০ টাকা হতে সর্বোচ্চ ৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এই চামড়া বাজারে নিয়ে আসার পর দাম না পেয়ে আর্থিক লোকসানের মূখে পড়েন তারা।

বিজিবির ৪২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মাহবুব মোর্শেদ জানান, চামড়া ব্যবসায়ীরা ভারতে চামড়া পাচারের আশঙ্কা করলেও বিজিবির কর্মকর্তারা সতর্কাবস্থায় রয়েছেন। তিনি জানান, দিনাজপুর সেক্টরের অধীন প্রায় ২৪০ কিলোমিটার সীমান্তে বিজিবির ৪৬টি আউট পোষ্ট ও ৫টি বিওপি ক্যাম্প রয়েছে। এসব আউট পোষ্ট ও ক্যাম্পের বিজিবির সদস্যরা সার্বক্ষনিক সতর্কাবস্থায় রয়েছেন। এছাড়া চামড়া পাচাররোধে বিশেষ চেকপোষ্ট বসানো হয়েছে। গোটা সীমান্তজুড়ে কুরবানির দিন থেকেই বিজিবি’র সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। তাই কোনক্রমেই চামড়া পাচার সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য