আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: ভয়াবহ বন্যায় পাল্টে গেছে গ্রাম গুলোর চিত্রপট। দৃষ্টি পরলেই শুধু তছনছের চিত্র। ঈদের অনন্দ নেই হাজারও বানভাসীর। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখে গেছে, দু’দিন বাদে ঈদ। একটু দুরে দেখা মেলে ছোট্ট শিশুর যেন চোখেমুখে চিন্তার ছাপ স্পষ্ট, ফর্সা মুখটিও দেখাচ্ছে কালো। কোনো দিকে না তাকিয়ে খালি গায়ে সড়কে বসে ভাত রান্না করছে আনমনে।

হয়তো তাদের পেট তাগাদা দিচ্ছে,তাই দ্রুত চুলোতে খড়খুটো ঠেলে দিচ্ছে সে, চুলো জ্বলছে দাউদাউ করে। শিশুটির নাম সোহাগী। সোহাগী (৯) এর সাথে কথা বলে জানা গেল, পরনে জামাটি ছাড়া সব পানিতে ভেসে গেছে। বাবা বলছে এবার ঈদে নতুন জামা কিনে দিবে না। তাই এবার ঈদে নুতুন জামার পড়া হবে না সোহাগীর। সে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার নিজ গড্ডিমারী গ্রামের ছকের আলী ও রাশেদা বেগমের মেয়ে সোহাগী।

সোহাগী নিজ গড্ডিমারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। বন্যায় ঘরবাড়ি ভেসে যাওয়ায় রাস্তার ধারে একটি টিনের চালা পেতে কোনমতে তিন সন্তান নিয়ে বাসকরছেন তারা। ত্রানের চাউলেই চলে তাদের সংসার। মা রাশেদা বেগম ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে গেছেন ত্রাণ পাওয়ার আশায়।

দিনমজুর বাবা ছকের আলী কাজ না পেয়ে ঘরে বসে দিন পার করছেন। ছকের আলী জানায়, বন্যায় বাড়িঘর ভেঙ্গে যাওয়ার পর থেকেই এই সড়কে বাস করছি। কাজ কাম নাই। মেয়ের নতুন জামা কেনার টাকা পাব কই? ঈদের দিনে খেতে পারব কি না সেটাই কথা। এখন ত্রাণের চালেই একমাত্র ভরসা। গড্ডিমারী ইউনিয়নে সড়কে আশ্রয় নেওয়া লোকজনের অনেকে বলেছেন, গত কয়েকদিন ধরে তাদের কাটছে খোলা আকাশের নিচে।

পরিবার-পরিজন নিয়ে রাত কাটছে পলিথিন বা পেপার গায়ে জড়িয়ে। আবার আবারও ভাঙনের ভয়ে কখনও নির্ঘুম। সোহাগী পবিবার নয়, এ চিত্র এখন ওই এলাকার অসংখ্য বানভাসী মানুষের।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য