মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও থেকেঃ ঠাকুরগাঁওয়ের বিশিষ্ট ব্যবসায়ি ওসমান আলীর রাহবার হিমাগার নামে ৩ টি কোল্ড ষ্টোরেজে অনৈতিক ভাবে বিদ্যুৎ চুরির প্রমাণ পাওয়ার অভিযোগে দেড় কোটি টাকা জরিমানা করেছে পল্লী বিদ্যুৎতায়ন বোর্ড।

কিন্তু গত ৪ বছরেও রাহবার হিমাগার কর্তৃপক্ষ দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ-১ এর জেনারেল ম্যানেজারকে ম্যানেজ করে জরিমানার টাকার পরিশোধ করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

এরই প্রেক্ষিতে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় কোল্ড ষ্টোরেজ এসোসিয়েশন দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ-১ এর আওয়াতাধীন রাহবার হিমাগারের বিদ্যুৎ চুরির পুনরায় তদন্ত ও জরিমানার অর্থ পরিশোধের জন্য পল্লী বিদ্যুৎতায়ন চেয়ারম্যান বরাবরসহ কয়েকটি দপ্তরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য লিখিত অভিযোগ করেছেন।

সূত্র মতে, ঠাকুরগাঁওয়ের ব্যবসায়ি ওসমান আলীর রাহবার হিমাগার নামে ৩টি কোল্ড ষ্টোরেজ প্রতিমাসের বিদ্যুৎ বিল চুরি করে অন্যান্য কোল্ড ষ্টোরের বিদ্যুত বিলের চেয়ে ৩ ভাগের এক ভাগ বিল প্রতিমাসে পরিশোধ করেছেন বলে অভিযোগ উঠে। বিষয়টি বীরগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের নজরে আসলে দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ-১ এর জেনারেল ম্যানেজারকে অবগত করা হয়।

পরে দিপবিস-১ এর একটি গঠিত তদন্ত কমিটি অনুসন্ধানে নামলে মিটারের সফটওয়্যার এর মাধ্যমে ব্যবহৃত ইউনিটের চারভাগের তিন ভাগ কমিয়েছেন বলে প্রমান পায় তদন্ত কমিটি। পরে বিদ্যুৎ চুরির দ্বায় স্বীকার করেন রাহবার হিমাগার কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যুৎ চুরির প্রমান পাওয়ায় ৪১ মাসে রাহবার হিমাগার নামে ৩ টি কোল্ড ষ্টোরের ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিলের জন্য দেড় কোটি টাকা জরিমানা করেন পল্লী বিদ্যুৎতায়ন বোর্ড।

কিন্তু গত ৪ বছরে দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ-১ এর জেনারেল ম্যানেজার রাহবার হিমাগার কর্তৃপক্ষের কাছে জরিমানার অর্থ পরিশোধের জন্য কোন উদ্যোগ গ্রহন করেননি।

অভিযোগ উঠেছে হিমাগার কর্তৃপক্ষ দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ-১ এর জেনারেল ম্যানেজারকে ম্যানেজ করে জরিমানার অর্থের বিষয়টি ধামা চাপা দেওয়া হয়েছে।

দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় কোল্ড এসোসিয়েশন সভাপতি আব্দুল্লাহ বলেন, বৃহত্তর দিনাজপুরে ১৮টি কোল্ড ষ্টোর কর্তৃপক্ষ আমরা পল্লী বিদ্যুৎ এর ইউনিট অনুয়ায়ী বিল পরিশোধ করে আসছি। কিন্তু রাহবার হিমাগার নামে ৩ টি কোল্ড ষ্টোর বিদ্যুৎ বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে চুরি করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করেছে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগ বিষয়টি তদন্ত করে প্রমান পেয়ে দেড় কোটি টাকা জরিমানা করার পরে অর্থ আদায়ে কোন ভূমিকা পালন করেনি দিপবিস-১। তাই সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ায় পল্লী বিদ্যুৎতায়ন চেয়ারম্যান বরাবরসহ কয়েকটি দপ্তরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে।

রাহবার হিমাগারের মালিক ওসমান আলীর কাছে পল্লী বিদ্যুৎতায়নের জরিমানার টাকা গত ৪ বছরেরও পরিশোধ না করার কারণ জানত চাইলে তিনি বলেন, জরিমানার টাকা কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধের চেষ্টা করছি। খুব শীঘ্রই সব বিল পরিশোধ করা হবে।

দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ-১ এর জেনারেল ম্যানেজার (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুল হক জানান, রাহবার হিমাগার নামে ৩টি কোল্ড ষ্টোরের সাথে অন্যান্য হিমাগারের বিলের সাথে যাচাই বাছাই করে অভিযোগে প্রমাণ পাওয়ায় দেড় কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। উক্ত জরিমানা পরিশোধের জন্য হিমাগার কর্তৃপক্ষকে ৩৬ মাসের কিস্তিতে জরিমানা পরিশোধ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ড।

দীর্ঘদিনও জরিমানার টাকা পরিশোধ করার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়নি কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন আমি বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত হিসাবে দায়িত্বে আছি। আমার জানা মতে তারা কিস্তি পরিশোধ করছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য