ধর্ষণ মামলায় ২০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতের স্বঘোষিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিং এর ডেরায় ‘অসামাজিক কর্মকাণ্ডের’ আলামত পাওয়ার দাবি করেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। কন্ডোম, গর্ভনিরোধক বড়ি, অশ্লীল সিডি, ভিডিও এমনকি সেক্স টনিকও পাওয়া গেছে সেখানে। সম্প্রতি নিউজ ১৮-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন এই মামলার প্রধান তদন্তকারী সিবিআইয়ের অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি এম নারায়ণন। কিভাবে ডেরার ভিতর অসামাজিক কাজকর্ম চালাতেন ‘গুরুজি’ তাও সংবাদ মাধ্যমকে জানান নারায়ণন।

নারায়ণন জানান, নিজের গোপন গুহায় সুন্দরী অল্পবয়সী সাধ্বীদের দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকতেন বাবা। তার ব্যক্তিগত পরিচর্যার দায়িত্বে থাকতেন এই সাধ্বীরাই। কিন্তু অনেক সময় তাতেও মন ভরতো না বাবার। ঠিক রাত ১০টার সময় ফোন যেত প্রধান সাধ্বীর কাছে। ‘আবদার’ থাকত নতুন তরুণী সাধ্বী পাঠানোর। নারায়ণনদাবি করেন, ডেরার সকলেই জানত এ বিষয়ে। কিন্তু ভয়ে মুখ খুলতেন না কেউ। নারায়ণন জানিয়েছেন, ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০২ সালের মধ্যে শুধুমাত্র যৌন নিপীড়নের কারণেই ডেরা ছেড়ে গিয়েছিলেন দুই শতাধিক নারী। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ১০ জনকে খুঁজে পেয়েছে সিবিআই। এ ১০ জনের মধ্যে মাত্র দু’জন আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। বাকিরা মুখ খুলতে চাননি।

সাক্ষাৎকারে নারায়ণন আরও জানান, সামাজিক কাজকর্মের আড়ালে স্বেচ্ছাচার চালাতেন ভণ্ড বাবা। নারায়ণনের কথায়, “ও মানসিক রোগগ্রস্ত। জন্তু ছাড়া আর কিচ্ছু নয়।”

পশ্চিমবঙ্গ ভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, ধর্ষণ মামলায় রাম রহিমের কারাদণ্ড হওয়ার পর তল্লাশি চালানো হয় তার ডেরায়। সেখান থেকে ১৮ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক নারীকে উদ্ধার করা হয়। তাদের ওপরও যৌন নিপীড়ন চালানো হয়েছে কি না, তা জানার জন্য ডাক্তারি পরীক্ষা করা হবে বলে জানা গেছে। আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, রাম রহিমের ডেরা সাচা সৌদার ভাণ্ডারে লেক্সাস, রেঞ্জ রোভারের মতো বিলাসবহুল গাড়ির সংখ্যা একাধিক। বিশাল বিশাল ঘরের অধিকাংশ জায়গাই খাঁটি সোনায় মোড়া। এখান থেকেই রাজকীয় হালে নিজের সাম্রাজ্য পরিচালনা করতেন ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত গুরমিত রাম রহিম সিং। একেবারে মনের মতো করে ডেরার পরিবেশ সাজিয়েছিলেন রাম রহিম।

শুধু ধর্ষণ মামলাই নয়, রাম রহিমের মাথার ওপর ঝুলছে দু’টি খুনের মামলাও। ২০০২ সালে ধর্ষণের কথা জানিয়ে দুই সাধ্বী চিঠি পাঠিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটোলবিহারী বাজপেয়ীকে। ওই দুই সাধ্বীর মধ্যে একজন ছিলেন ডেরা ম্যানেজার রঞ্জিত সিং এর বোন। ‘দেশ সেবক’ নামের একটি পত্রিকায় এই চিঠি প্রকাশ করেন সাংবাদিক রামচন্দ্র ছত্রপতি। অভিযোগ রয়েছে, এরপরেই রঞ্জিত সিং এবং ছত্রপতিকে খুন করান রাম রহিম। আগামী মাসেই সেই মামলার শুনানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য