ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের লক্ষে বুধবার দুপুরে হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে সচেতন নাগরিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সমাজসেবী, গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের সভাপতিতের সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত¡বধায়ক ও সিভিল সার্জন ডাঃ খায়রুল কবীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁওের সুযোগ্য জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল, ঠাকুরগাঁওের সুযোগ্য এ এস পি দেওয়ান লালন বাপ্পি, ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের আর এম ও,ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের সকল ডাক্তারবৃন্দ, বিভিন্ন ক্লিনিকের মালিক বৃন্দ, বিভিন্ন বেকারি মালিকবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্ত সহ সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের মধ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের আর এম ও ডাঃ সুব্রত কুমার রায় ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন। বিগত সনাক সভায় হাসপাতালের সেবার যে দুর্বল দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল তা হলো-পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার মাত্রা পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি, টয়লেট প্রতিদিন পরিস্কার করা, সকল ওয়ার্ডে রোগীদের সময়মত তিনবেলা খাবার সরবরাহ ও খাবারের মান পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি, নার্সদের সময়মত উপস্থিতি এবং সবাই অফিসিয়াল পোষাক পরিহিত অবস্থায় থাকা, বাথরুম পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, জরুরী বিভাগে ডাক্তার থাকা, ময়লা আবর্জনার জন্য ডাষ্টবিনের ব্যবহার পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি, হাসপাতালের ফার্মেসিতে কর্তব্যরত কর্মকর্তা উপস্থিতি ইত্যাদি। বর্তমানে দুর্বল দিকগুলো হলো-রোগীদের তথ্য বোর্ডটি হালনাগাদ না করা, রোগীদের বিভিন্ন সময়ের ব্লাড টেষ্টের রিপোর্ট একই সময়ে প্রদান, টিকিট কাউন্টার সময়মত না খোলা, ঔষদের তালিকা হালনাগাদ করা থাকলেও অল্প কয়েক ধরণের ঔষধ মজুদ থাকা, নির্দিষ্ট সময়ের বাইরেও মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের প্রবেশ, কিছু কিছু ডাক্তার যথাসময়ে হাসপাতালে উপস্থিত না হওয়া, ডায়রিয়া ও প্রসূতি ওয়ার্ডের কিছু টয়লেটের সংস্কার না হওয়া, মহিলা ও শিশু ওর্য়াডে রাতে ডাক্তারের পর্যবেক্ষণ না থাকা, জরুরী বিভাগের পাশে অবস্থিত দায়িত্বরত চিকিৎসক ও কর্মচারীদের তালিকা হালনাগাদ না করা, অক্সিজেন সিলিন্ডার বিভিন্ন বেডে নিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ট্রলি না থাকা, কিছু কক্ষে ডাক্তারের কোন পরিচিতি বোর্ড না থাকা ও ডাক্তার বসার সময় উল্লেখ না থাকা, অন্তঃবিভাগে ঔষধ প্রাপ্তির স্বল্পতা, চক্ষুর ডাক্তার না থাকায় রোগী দেখা ও চক্ষু অপারেশন বন্ধ থাকা, আলট্রাসনোগ্রাফি রুমের সামনের রোগীদের বসার উপযোগী ব্যবস্থা না থাকা এবং ইনজেকশন পুস করার সময় হেক্সিসল ব্যবহার না করা ইত্যাদি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক বলেন, আরএমওসহ হাসপাতালের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় উপরোল্লিখিত দুর্বল দিকগুলো দূর করা হয়েছে। গুণগত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সকল ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এখন রোগীরা ভাল সেবা পাচ্ছে। আগামীতে যাতে আরো উন্নত সেবা পায় এজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সিভিল সার্জন আরো বলেন, ইতোমধ্যে অপারেশন থিয়েটারে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জেলা পরিষদের প্রশাসক বিশেষ হিসেবে দিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক আঃ আওয়াল তাঁর বক্তব্যে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সকল ধরণের ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক উদ্যেগে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের কনসালটেন্ট, মেডিকেল অফিসার, নার্স, টেশনিশিয়ান, ফার্মাসিষ্ট সনাক, স্বজন, ইয়েস সদস্য ও টিআইবি কর্মকর্তা সহ নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য