রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানে ব্যাপক হতাহতের খবর নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠক ডাকতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।

রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ ইস্যুগুলোর সমাধান এবং সংঘাত থেকে বিরত থাকার জন্য সব পক্ষকে আহ্বান জানানো প্রয়োজন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মঙ্গলবার জাতিসংঘে নিয়োজিত যুক্তরাজ্যের দূত ম্যাথিউ রিক্রফট টুইটারে এ আহ্বান জানান।

নিরস্ত্র রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গুলি ছুড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে ম্যাথিউ রিক্রফট তার টুইটে লিখেছেন, ‘আগামীকাল মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠকের জন্য যুক্তরাজ্য অনুরোধ জানাচ্ছে। আল জাজিরা জানায়, গতকাল বুধবার বৈঠকটি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত সোমবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস রাখাইন রাজ্যে মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংগঠনগুলোকে ঢুকতে দেওয়ার জন্য মিয়ানমার সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন। গুতেরেসের কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান চলার সময় বেসামরিক নিহত হওয়ার খবর নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’ মিয়ানমারে ১০ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস।

এসকল রোহিঙ্গার বেশিরভাগই রাখাইন রাজ্যের উত্তর অংশে বসবাস করে। সম্প্রতি রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু করার পর ওই এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। ২৪ আগস্ট রাখাইন রাজ্যের ‘বিদ্রোহী রোহিঙ্গা’রা ২৪টি পুলিশ চেকপোস্টে সমন্বিত হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করে মিয়ানমারের ডি-ফ্যাক্টো সরকার। পরে হামলার দায় স্বীকার করে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরওসএ)।

তাদের দাবি, আত্মরক্ষার্থে এ হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশ পোস্টে হামলার পর রাখাইন রাজ্যে ব্যাপক অভিযান শুরু করে সরকারি বাহিনী। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে, সেনাবাহিনী গ্রাম জ¦ালিয়ে দিচ্ছে এবং বেসামরিকদের গুলি করছে। সহিংসতার জন্য রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে মিয়ানমার সরকার।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য