04_Narendra_Modiনরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হলে আঞ্চলিক বিরোধ নিয়ে প্রতিবেশী দেশ চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে কঠোর আচরণ করবে ভারত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোদির দুজন উপদেষ্টা এ কথা জানিয়েছেন। মে’র ৭ তারিখ থেকে শুরু হয়ে পাঁচ সপ্তাহে কয়েক পর্বে সম্পন্ন হবে ভারতের জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনে হিন্দু জাতীয়তাবাদি মোদির নেতৃত্বে তার দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) অন্যান্য দল থেকে জরিপানুযায়ী এগিয়ে আছে।
নির্বাচনী সমাবেশগুলোতে প্রতিবেশী ওই দুই দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক সুরে কথা বলেছেন মোদি। এক সমাবেশে চীনকে তার “সম্প্রসারণবাদি মনোভাব” লুকাতে বলেছেন তিনি। এর আগে ভারতে মুসলিম জঙ্গিদের হামলাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছিলেন। গত মাসে চীনের দাবি করা ভূখণ্ড অরুণাচল প্রদেশে গিয়ে মোদি বলেছেন, এই মাটির কসম খেয়ে বলছি আমি দেশকে রক্ষা করবো। ভারত, চীন ও পাকিস্তান, প্রত্যেকেই নিউক্লিয়ার শক্তি। আফগানিস্তান থেকে পশ্চিমা শক্তিগুলো চলে যাওয়ার পর দেশগুলো সেখানে অবস্থান সংহত করার চেষ্টায় আছে।
ভারত এ পর্যন্ত তিনবার পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে, আর চীনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে একবার। ২০০১ সালেও পাকিস্তান-ভারত চতুর্থ যুদ্ধের প্রান্তে চলে গিয়েছিল; তারপর থেকে ভারতের বৈদেশিক নীতি অধিকাংশ সময় শান্তিপূর্ণ ছিল। ভারতের ৬৭ বছরের ইতিহাসে ৫০ বছর ক্ষমতায় থাকা কংগ্রেস পার্টিকে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুর্বল বলে চিত্রিত করেছেন। যদিও সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ ভারত। ভবিষ্যৎ মোদি সরকারের বৈদেশিক নীতি আধিপত্যাবাদি হলেও অর্থনীতি উজ্জীবনের মাধ্যমে আঞ্চলিক টানাপোড়েনের রাশ টেনে ধরার দিকেও সরকার দৃষ্টি রাখবে বলে জানান তার ওই দুই উপদেষ্টা। এদের মধ্যে বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি সঙ্গে জড়িত একজন বলেন, আমাদের বৈদেশিক নীতি হবে অর্থনীতি-ভিত্তিক। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হল ভারতের অর্থনীতিকে এমন একটি শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করা, যার ভিত্তিতে আমরা অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের নিজস্ব শর্ত নিয়ে চুক্তি করতে পারি। নতুন প্রধানমন্ত্রী দুর্বল না, চীনারা এটি বুঝতে পারবে, তাই রোমাঞ্চকর কোনো কিছু করার চেষ্টাও তারা করবে না, বলেন বিজেপি’র ওই কৌশলবিদ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য