মোঃ আবেদ আলী, বীরগঞ্জ থেকেঃ বীরগঞ্জে গত মঙ্গলবার ভুল্লি নদীতে গোসল করতে গিয়ে স্কুল ছাত্র মোঃ সজীব (৮)’র মৃত্যুতে এলাকায় শোক ছায়া পরেছে।

শতগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান ডাঃ খান মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন জানান, উপজেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার উত্তরে প্রসাদপাড়া গ্রামের ইয়াকুব আলীর একমাত্র ছেলে ঝাড়বাড়ী সরকারী প্রাথমিক ব্যিালয়ের ২য় শ্রেণীর কোমলমতি শিশু স্কুলছাত্র মোঃ সজীব (৮) ঐদিন স্কুলে পরীক্ষা দিয়ে সারে ১২টার দিকে বাড়ী ফিরে আসে।

মোঃ সজীব তার খেলার সাথী মেহেদী, সুমন ও সুজন সহ ৪/৫ বন্ধুর সাথে দেবারুপাড়া গ্রাম সংলগ্ন বাগদাদ গরুর খামারের পাশে ভুল্লি নদীর হাটু পানিতে গোসল করতে যায়। গোসল করার সময় বন্ধুদের চোখের সামনে সজীব অথৈই পানিতে ডুবে যায়। এ দৃশ্য দেখে বন্ধু মেহেদী সজীবের বাড়ীতে সংবাদ দেয়।

সংবাদ পেয়ে বাবা-মা একমাত্র সন্তানের জন্য নদীর ধারে আহাজারী করলে এলাকার সাতারু শামছুল ইসলাম, মামুনুর রশিদ, আব্দুর রাজ্জাক, মোস্তাক হোসেন ও জমির উদ্দিনসহ অনেকে নদীর পানিতে ডুবে ডুবে দীর্ঘ দুই ঘন্টা খুজাখুজির পর বেলা ৩টার দিকে জেলে জমির উদ্দিন ২০ ফুট পানির গভীর থেকে মৃতবস্থায় লাশ উদ্ধার করে। ইয়াকুব আলীর একমাত্র ছেলে ঝাড়বাড়ী সরকারী প্রাথমিক ব্যিালয়ের ২য় শ্রেণীর কোমলমতি শিশু স্কুলছাত্র মোঃ সজীবের জানাজা শেষে একই দিনে তার লাশ বাড়ীর পাশেই দাফন করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র সরকারী রাজস্ব (ইজারা বিহীন) ফাঁকি দিয়ে চার পাশে ২ শত ফিট ও গভীর ২০ ফিট একটি স্থানে সম্প্রতি ভুল্লি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে প্রতি টর্লী বালু ৪০০/-টাকা হারে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা লুট করেছে। নদীর ওই অংশে গভিরতায় মরন ফাঁদের সৃষ্টি করেছে এবং এই জায়গাটুকু বাদ দিলে নদীর কোথাও হাটু পানির বেশী পানি নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেন জানান, ভুল্লি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে বালু উত্তেলনের প্রমান পাওয়া গেলে তাদের প্রত্যেকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যাবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য