দেলোয়ার হোসেন বাদশা, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুর চিরিরবন্দরে কোরবানীর ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই জমে উঠছে পশুর হাটগুলো। ইতোমধ্যে বাজারে প্রচুর গরু ও ছাগল আমদানি হচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বন্যার কারণে বাইরে থেকে বেপারি বা ক্রেতা না আসায় গরুর হাটে কেনাবেচা নেই বললেই চলে। ফলে খামার মালিক ও ব্যবসায়ীরা গরু বিক্রি করতে না পেরে চরম হতাশায় ভুগছেন।

চিরিরবন্দর উপজেলায় ৩টি বড় পশুর হাটের মধ্যে রাণীরবন্দর, কারেন্টহাট, বিন্যাকুড়ি এছাড়াও রয়েছে ছোট বড় অনেক হাট। কোরবানি উপলক্ষে এসব হাটে প্রচুর গরুর আমদানি হচ্ছে। দেশীয় খামারে মোটাতাজাকরণ গরুসহ ভারতীয় গরু রয়েছে। উপজেলার রাণীরবন্দর হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটে ব্যাপক পরিমাণ গরু আমদানি হয়েছে। ছোট গরু থেকে শুরু করে বড় আকারের গরুও রয়েছে। কিন্তু আমদানিকৃত গরুর তুলনায় ক্রেতা নেই বললেই চলে।

জেহের আলী, নজরুল, ফিজারসহ একাধিক বিক্রেতা জানান, ক্রেতার অভাবে গরু বিক্রি করতে পারছেন না। যদিও বিক্রি হচ্ছে অনেক কম দামে। বর্তমানে তারা চোখে সর্ষেফুল দেখছেন। কারণ ক্রেতারা যে দাম বলছেন তাতে গরুপ্রতি কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। সাতনালা গ্রামের মোস্তাফিজার নামে একজন খামারি বলেন, কাঁচা ঘাস, খড়, খৈল, খুদ, ফিড থেকে শুরু করে সবধরনের জিনিসের দাম গত বছরের তুলনায় বেশি।

সারা বছর একটি গরু পালন করতে যে ব্যয় হয় সে তুলনায় গরুর দাম পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বর্তমান বাজারে গরু বিক্রি করে তাদের লোকসান দিতে হচ্ছে। গরু ব্যবসায়ীরা আরও জানান, আমরা প্রতি বছর গরু বিক্রির লাভের টাকা দিয়ে কোবরানির ঈদ পালন করে থাকি। কিন্তু এ বছর লাভ তো দূরের কথা পুঁজি ঘাটতি হচ্ছে।

উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: আবু সাঈদ আকন্দ জানান, আসন্ন ঈদুল আযহায় উপজেলায় বিভিন্ন খামার ও বাসাবাড়িতে গরু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে ১৩ হাজার, ছাগল ৬ হাজার ৫ শত, আর ভেড়া সাড়ে ৩ শত। এখানে পালিত পশু দিয়ে উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে কমপক্ষে ৫-৬ হাজার গরু বাইরে বিক্রি করা হবে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ শুরু থেকে এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আসছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য