আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন লালমনিরহাটের কামারপাড়ার লোকজন। সারাবছর খুব একটা কাজের চাপ না থাকলেও কোরবানি ঈদ উপলক্ষে তাদের কর্ম ব্যস্ততা বেড়েছে কয়েকগুন। টুং-টাং শব্দে মুখরিত এখন কামারপাড়া।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়,সদর উপজেলার বিডিয়ার রোড , আদিতমারী বাজার, কালীগঞ্জের কাকিনা বাজার, চৌধারী বাজার,হাতীবান্ধা উপজেলা বাজারসহ ছোট-বড় সব বাজারে সর্বত্র কামারের ব্যস্ত সময় পার করছে। কয়লার দগদগে আগুনে লোহাকে পুড়িয়ে পিটিয়ে তৈরি করা হচ্ছে দা, কুড়াল, ছুরি, চাকুসহ ধারালো সামগ্রী। কেউবা অর্ডারকৃত আর কেউ নিজে লোহাদিয়ে ধারালো সমগ্রী তৈরি করছে। তবে এসব তৈরিতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি কামারের দোকানগুলোতে। পুরনো নিয়মেই চলছে লোহগলিয়ে ধারালো সামগ্রী তৈরির কাজ।

কামারেরা জানান, এ পেশায় বেশি পরিশ্রম। শ্রম অনুযায়ী তারা এর মূল্য পাচ্ছেন না। কারণ লোহার দাম বেশি। এতে জীবিকা নির্বাহে তাদের বেশ কষ্ট পেতে হয়। শুধু পরিবারে ঐতিহ্য ধরে রাখতেই এ পেশাটিকে তারা এখনো আঁকড়ে ধরে আছেন। এছাড়াও সারাবছরে পরিবারে ও কৃষি জমিতে ব্যবহারের প্রয়োজনে অনেকে তা তৈরি করে নিয়ে যাচ্ছে। তবে কোরবানির পশুর জন্য বেশি প্রয়োজন হওয়ায় সবাই এখন ছুটছে কামারদের কাছে।

কাকিনার বাজারের কামার মানিক মোহন্ত কর্মকার জানান, পশু জবাইয়ের বিভিন্ন অস্ত্রের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এখন তার প্রতিদির ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা আয় হচ্ছে। হাতীবান্ধা বাজারের কামার শহিদুল ইসলাম জানান, ঈদকে সামনে রেখে তার কর্ম ব্যস্ততা বেড়েছে কয়েকগুন। এতে খরচ বাদ দিয়ে তার প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার টাকা আয় হচ্ছে।

একটি সাড়ে তিন কেজির লোহার দা তৈরি করে ৬০০ টাকা, কুড়াল দেড় কেজি ২৬০ থেকে ৩০০ টাকা, বড় ছোরা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তিনি আরো জানান, ঈদে যে বেচাকেনা হয় তা আর অন্য সময় হয় না। সারাবছর এসব পণ্য যে পরিমাণে বিক্রি হয়, তার চেয়ে বেশি বিক্রি হয় ঈদের সময়।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার বিডিয়ার রোড এলাকার কামার অমল্য কর্মকার জানান, সারা বছর তার দোকানের তৈরি জিনিসের চাহিদা থাকে। কিন্তু ঈদে অনেকেই পশু কোরবানির জন্য নতুন ছুরি, চাপতি, চাকু বিক্রি বেশি হচ্ছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে চাহিদা তত বেড়ে যাবে বলেও তিনি জানান। ওনার দোকানে আসা বটি কেনার জন্য গৃহিনী লাবনী সরকার বলেন, আমার পুরাতন একটি হাসুয়া ও দা ধার দেয়ার জন্য এখানে আসা। তাছাড়া একটি নতুন বটি কিনবো। কোরবানীর ঈদতো তাই এগুলো কেনা খুবই জরুরী। সব মিলিয়ে ঈদ আসলেই লৌহ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ব্যস্ততা বেড়ে যায় কয়েকগুন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য