Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
09 24 18

সোমবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৩ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী

Home - সম্পাদকীয় - মৃত্যুবার্ষিকীতে কবি নজরুলের কবরে শ্রদ্ধা

মৃত্যুবার্ষিকীতে কবি নজরুলের কবরে শ্রদ্ধা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকীতে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছে সব শ্রেণি পেশার মানুষ। রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে কবির কবরে এই শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব চলে।

App DinajpurNews Gif

সকাল ৭টায় কবি পরিবারের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান কবির নাতনি খিলখিল কাজী, তার ভাই বাবুল কাজীর স্ত্রী লুনা কাজী ও তার মেয়ে আবাছা কাজী। পরে তারা কবির আত্মার শান্তি কামনায় মোনাজাতে অংশ নেন।

১৯৭৬ সালের ২৯ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (তৎকালীন পিজি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় কবি নজরুল ইসলামের। শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে সমাহিত করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে।

তার ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকীর সকালে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, নজরুল ইনস্টিটিউট, বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে কবির কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

পরে খিলখিল কাজী সাংবাদিকদের বলেন, “আজ আমরা সবাই কবির ৪১তম প্রয়াণদিবস পালন করছি, কিন্তু সর্বস্তরের মানুষের কাছে নজরুল ইসলামকে এখনো আমরা পৌঁছে দিতে পারিনি।… এই পৌঁছে দিতে না পারার জন্য আমরাই দায়ী। কারণ আমরা কবিকে নিয়ে সেভাবে চর্চা করছি না।”

কবির নাতনি বলেন, নজরুল ইসলাম ছিলেন সবার কবি, মানুষের কবি। গ্রাম থেকে শহরে, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজরুল পড়াতে হবে, তার জীবন দর্শন জানাতে হবে।

“কবির জীবন-দর্শন ছিল অসাম্প্রদায়িক, তিনি মানুষকে ভালোবাসতেন। হিন্দু-মুসলমান আমাদের পরিচয় নয়, আমরা সকলেই মানুষ- এটাই ছিল তার আদর্শ। এই আদর্শকে যদি আমরা সকলের কাছে পৌঁছে দিতে পারি, তবেই আমরা শোষণমুক্ত, সুখী-সমৃদ্ধ একটা সমাজ- যেটা তিনি সবসময় স্বপ্ন দেখেছিলেন- আমরা গড়তে পারব।”

খিলখিল কাজী বলেন, এই সময়ে বিশ্বে যেখানে ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথাচাড়া দিচ্ছে, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, তখন নজরুল দর্শনের চর্চা খুবই জরুরি।

বিএনপির পক্ষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার এবং ছাত্রদলের নেতারা নজরুলের কবরে ফুল দিতে এসেছিলেন।

১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। শৈশবেই স্বজন হারানো ‘দুখু মিয়া’ দারিদ্র্য আর সব বাধা ঠেলে একসময় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা হয়ে ওঠেন।

১৯৪২ সালে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে ক্রমশ বাকশক্তি হারান নজরুল। স্বাধীনতার পরপরই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসুস্থ কবিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। নজরুল হন বাংলাদেশের জাতীয় কবি।