আগুনের পোড়ানো লাল টুকটুকে লোহা। সেই লোহা পেটানোর কর্কশ শব্দ, পোড়া গন্ধ, পোড়া লোহা থেকে বিচ্ছুরিত আগুনের স্ফূলিঙ্গ। যেন দম ফেলানোর সময় নেই। সামনে কুরবানীর ঈদ, তাই দা, বটি, চাকু, কুড়ালসহ অন্যন্য লোহার সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত তারা। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে তাদের ব্যস্ততা বাড়ছে।

বছরের এ সময়টা তাদের ব্যবসার মওসুম। কাজের কারণে দম ফেলানোর সময় নেই। দিনের পাশাপাশি রাতেও এসব লোহার সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে কর্মকারদের। বছরে একবার এসবের চাহিদা বেশি থাকায় এক মাসেই সারাবছরের উপার্জন করে নিতে হয় তাদের। তাই দিনশেষে রাতেও বিরাম নেই এই কারিগরদের।

পবিত্র ঈদুল আজহা আসতে আর ৭/৮ দিন বাকি। তার আগেই জমে উঠেছে দা-বঁটির বাজার। এজন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন শহরের রাজবাটি, বালুবাড়ী পুলহাটসহ জেলার বিভিন্ন কামারপট্টির কারিগররা। ঈদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে দা, চাকু, কুড়ালসহ লোহার সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বালুবাড়ী কামারপট্টির এক প্রবীণ কারিগর জানান, ‘কোরবানিকে কেন্দ্র করে বেশি অর্ডার আসছে চাপাতি, দা, বঁটি, ছুরি, কুড়ালসহ পশু কোরবানি সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির,’

তিনি বলেন, ‘কাজের চাপ বেশি থাকলেও যন্ত্র তৈরির জ্বালানি কয়লার দামও বাড়তি। এক বস্তা কয়লার দাম এক হাজার ৫০০ টাকা। যা একদিনেই শেষ হয়ে যায়।’

কামারপট্টির অন্যান্য কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লোহার এসব যন্ত্রপাতির কাঁচামাল কিনতে হয় বগুড়া বা ঢাকা থেকে। যার মূল্য পড়ে প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা করে সাথে যাতায়াত খরচ আছে। আর এক কেজি লোহা থেকে তৈরি একটি দা বিক্রি হয় ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা।

বছরের অন্য সময় ‘দৈনিক পাঁচ থেকে সাতশ টাকা আয় হলেও, তাদের টার্গেট থাকে কোরবানির মওসুমে। বেচাকেনা চলছে সুন্দর, প্রচুর পরিমাণে অর্ডার আসা শুরু হয়েছে; কর্মব্যস্ততাও বেড়েছে’ বলে উল্লেখ করেন প্রবীণ এই কর্মকার।

প্রবীন এই কারিগর জানায়, এই পেশায় (কামার) পরিশ্রমের চেয়ে আয় কম। সারাদিন আগুনের পাশে বসে কাজ করতে হয়। দিন-রাত সারাক্ষণ আগুনের পাশেই কাটাতে হয়। এই পেশা ছাড়ছেন না কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাপ-দাদার কাছ থেকে এই কাজ শিখেছি। অন্য কাজ শিখিনি। তাই এই পেশা ছাড়ার উপায় নেই।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য