তাল গাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে, উঁকি মারে আকাশে, কবির এই কবিতা যেমন হারিয়ে যাচ্ছে তেমনি কাউনিয়ায় কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে পরিবেশ বান্ধব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষাকারী তাল গাছ।

এক সময় ছিল যখন উপজেলার গ্রামাঞ্চলে প্রায় প্রতিটি বাড়ীতে তাল গাছের দেখা মিললেও এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে অবাধে তাল গাছ নিধন করায় এ উপজেলায় তাল গাছ শুন্য হয়ে পড়ছে।

এ কারণে ঝড়, বৃষ্টি ও বিজলী (বিদ্যুৎ স্পৃষ্টের) হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না মানুষ, পশু-পাখি সহ জীব বৈচিত্র। গত বছর বিজলী পড়ে কাউনিয়ায় বেশ কয়েক জন মারাগেছে। কাউনিয়া উপজেলায় সব চেয়ে বেশী তাল গাছ ছিল কুর্শা ইউনিয়নে। প্রায় প্রতিটি বাড়িতে ও রাস্তার ধারে পুকুর পাড়ে ছোট বড় অনেক তাল গাছ শোভা পেত।

তালের রস দিয়ে বিভিন্ন ধরনের শৌখিন পিঠা আগের দিনে বিভিন্ন বাড়িতে তৈরী হতো। তালের পাতা দিয়ে তৈরী হতো নানা কারুকার্যের হাত পাখা। গরম কালে তাল পাতার পাখার কদর ছিল সকলের কাছে। কিন্তু তাল গাছের প্রকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় যে বিশাল ভুমিকা আছে এবং পরিবেশ বান্ধব তালের উপকার সম্পর্কে না জানায় তাল গাছ ইট ভাটায় লাকড়ি, ঘরের পাইর সহ নানা কাজে ব্যবহারের জন্য নির্বিচারে কেটে ফেলা হচ্ছে।

কিন্তু নতুন করে গাছ লাগানোর কোন উদ্যোগ নেই। এ কারণে দিন দিন প্রাকৃতিক পরিবেশ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শামিমুর রহমান জানান, তাল গাছ প্রকৃতির বন্ধু ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষাকারী বৃক্ষ। এ গাছ প্রবল ঝড় বৃষ্টি ও আকাশের বিজলী থেকে মানুষ ও প্রাণী জগত কে রক্ষা করতে সহায়তা করে।

যে এলাকায় তাল গাছের সংখ্যা বেশী সে এলাকায় ঝড়ে ও বিজলীতে মানুষ ও পশু পাখির মৃত্যুর হার খুব কম। তিনি আরো বলেন প্রকৃতির জীব বৈচিত্র রক্ষায় সরকার বাড়ীর আঙ্গিনার পার্শ্বে, রাস্তার ধারে ব্যাপক ভাবে তাল গাছ রোপনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে নিজেকে ও এলাকাকে রক্ষার জন্য সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যাক্তি উদ্যোগে তাল গাছ রোপনের আহবান জানান। কাউনিয়ার সচেতন মানুষ অতিদ্রুত সরকারী ভাবে এ উপজেলায় তাল গাছ লাগানোর দাবী জানিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য