ইয়েমেনের রাজধানী সানায় দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আব্দুল্লাহ সালেহর অনুগত সেনাদের সঙ্গে হুতি যোদ্ধাদের সংঘর্ষে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছে।

ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারা ও সেনাবাহিনীর সালেহ অনুগত অংশ মিলিতভাবে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। হুতি-সালেহ মিত্র বাহিনী ইয়েমেনের অধিকাংশ এলাকাও নিয়ন্ত্রণ করছে। গত আড়াই বছর ধরে বাহিনীটি যৌথভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

কিন্তু শনিবার এই মিত্র বাহিনীর দুপক্ষের মধ্যেই নজিরবিহীন ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সানার বাসিন্দারা জানান, শহরের অভিজাত এলাকায় সালেহর পুত্রের বাড়ি ও তার মিডিয়া অফিসের সামনে হুতি যোদ্ধারা একটি তল্লাশি চৌকি বসানোর চেষ্টা করলে প্রেসিডেন্টের গার্ড রেজিমেন্টের সেনাদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক গুলিবিনিময় হয়।

কয়েক ঘন্টা ধরে দুপক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চলার সময় শহরের হাদ্দা আবাসিক এলাকার প্রধান সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

হুতি-নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসএবিএ জানিয়েছে, সহিংসতায় পপুলার কমিটির দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দুপক্ষে আরো হতাহত হয়েছে বলে খবর প্রকাশ হলেও তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

হুতি ও সালেহর মধ্যে মিত্রতা কৌশলগত, পক্ষদুটির মধ্যে আদর্শগত ঐক্য সামান্য এবং উভয়পক্ষ একে অপরের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দিহান; এসব কারণে এই পক্ষদুটোর মিত্রতা নড়বড়ে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা।

গত কিছুদিন ধরেই দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল বলে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে। সালেহ হুতিদের ‘বেসামরিক বাহিনী’ হিসেবে বর্ণনা করলে এই নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। বুধবার সালেহর এই বক্তব্যের নিন্দা করে তাকের ‘শয়তান’ বলে অভিহিত করে হুতি যোদ্ধারা।

এর একদিন পর বৃহস্পতিবার সানায় কয়েক হাজার সমর্থককে জড়ো করে নিজের শক্তি প্রদর্শন করেন সালেহ।

এই পক্ষদুটি যৌথভাবে উত্তর ইয়েমেনের শাসনভার পরিচালনা করছে এবং ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়া সরকার ও আরব জোট বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করছে। এডেনভিত্তিক ওই সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট বাহিনী।

২০১৫ সালে তৎকলীন সরকারকে রাজধানী সানা থেকে তাড়িয়ে দিয়ে ইয়েমেনের অধিকাংশ এলাকা দখল করে নেয় ইরান সমর্থিত হুতি-সালেহ জোট বাহিনী। কিন্তু ক্ষমতাচ্যুত সরকারকে আবার সানায় ক্ষমতায় বসাতে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট বাহিনী।

তারপর থেকে দুপক্ষের লড়াইয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার লোক নিহত হলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য