ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ তেল গ্রাস খনিজ সম্পদ ও বিদুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির কেন্দ্রিয় সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেছেন, উচ্চ আদালতে প্রমান হয়েছে নাইকো চুক্তি অবৈধ্য ছিল, এখনো সরকার একের পর এক নাইকো চুক্তির ন্যায় অবৈধ্য চুক্তি করে যাচ্ছে, সুধু বিদেশীদের সার্থ রক্ষা করে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য। তাই এই সরকারের নিকট জাতীয় সম্পদ নিরাপদ নয়। জাতীয় সম্পদ এর নিরাপত্তার জন্য তিনি ফুলবাড়ীবাসীর সাথে সম্পাদিত ছয় দফা চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য দাবী জানান।

শনিবার ২৬ আগষ্ট দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে, ফুলবাড়ী দিবস পালন উপলক্ষে, স্থানীয় নিমতলা মোড়ে বেলা ১১ টায়, তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি ফুলবাড়ী শাখার উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অথিতির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

এ ছাড়া একই সমাবেশ থেকে আগামী দুই মাসের মধ্যে ফুলবাড়ী ছয় দফা চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষনা দিয়েছেন, তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির, ফুলবাড়ী শাখার ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক হামিদুল হক।

প্রতিবাদ সমাবেশে তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির,ফুলবাড়ী শাখার ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক হামিদুল হক এর সভাপতিত্বে, বিশেষ অথিতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন,গণফ্রন্টের সভাপতি টিপু বিশ্বাস, তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির, কেন্দ্রিয় সদস্য ও জাতীয় আদিবাসী পরিষদ এর সভাপতি রবীন্দ্র নাথ সরেন, ইউনাইটেড কমনিউস্টলীগ এর সাধারন সম্পাদক মোশারফ হোসেন নান্নু, বিপ্লবী ওর্য়াকাস পাটির কেন্দ্রিয় সদস্য আন্ছার আলী দুলাল, সিপিবি এর কেন্দ্রিয় সদস্য আলতাব হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রিয় নেতা আরিফুল হক আরিফ, তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির, দিনাজপুর জেলা শাখার অন্যতম নেতা সৈয়দ মোসোদ্দেক আলী লাবু, ফুলবাড়ী শাখার সদস্য সচিব জয় প্রকাশ নারায়ন, স্থানীয় নেতা এমএ কাইয়ুম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবলু প্রমুখ।

অধ্যাপক আনু মোজাম্মদ বলেন, মানুষের ঘরবাড়ী আবাদি জমি ও পরিবেশ ধ্বংশ করে যে প্রকল্প তৈরী হয় তা উন্নায়ন প্রকল্প নয়, এটি একটি ধ্বংশযজ্ঞ। এই ধ্বংশযজ্ঞর হাত থেকে বাংলাদেশকে ও বাংলাদেশের মানুষকে রক্ষা করতে হবে। তিনি আরো বলেন সুন্দর বন ধ্বংশ করার জন্য সরকার উঠেপড়ে লেগেছে, রামপাল বিদুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হলে সুন্দরবন ধ্বংশ হয়ে যাবে, এর পরেও সরকার সুধু বিদেশিদের সার্থ রক্ষার জন্য রামপাল বিদুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চালাচ্ছে, তিনি ২০০৬ সারের ২৬ আগষ্টের ফুলবাড়ী গণআন্দোলনের ন্যায় আরএকটি গণআন্দোলন গড়ে তুলে সুন্দর বন রক্ষার কর্মসুচিতে সকলকে যোগ দেযার আহবান জানান।

এর পুর্বে ফুলবাড়ী গণআন্দোলনের ১১ বছর প্রতি উপলক্ষে তেলগ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি ফুলবাড়ী শাখার উদ্যোগে, সকাল ১০টায় স্থানীয় নিমতলা মোড় থেকে একটি শোক র‌্যালী বের হয়, র‌্যালীটি পৌর শহর প্রদক্ষিন করে পুনরায় নিমতলা মোড়ে এসে শেষ হয়। র‌্যালী শেষে নিমতলা মোড়ে গণজমায়েত ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনষ্ঠিত হয়

অপরদিকে সকাল সাড়ে নয় টায় পৌর মেয়র মুরতুজা সরকার মানিক এর নেতৃত্বে সম্মিলিত পেশা জিবী সংগঠন ব্যবসায়ী অফিস চত্তর থেকে একটি র‌্যালী বের করে। র‌্যালীটি পৌর শহর প্রদক্ষিন করে ২০০৬ সালের ২৬ আগষ্ট আইন শৃংখলা বাহীনীর গুলিতে নিহতদের স্মৃতিস্তম্ভে এসে শেষ হয়।

র‌্যালী শেষে শহীদরে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্পন করা হয়। পুষ্পার্পন শেষে ফুলবাড়ীবাসীর সাথে সম্পাদিত ছয় দফা চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার শপৎবাক্য পাঠ করানো হয়। শপৎবাক্য পাঠ করান, সম্মিলিত পেশাজিবী সংগঠনের আহবায়ক পৌর মেয়র মুরতুজা সরকার মানিক। এসময় সম্মিলিত পেশাজিবী সংগঠনের সদস্য সচিব সাংবাদিক সহকারী অধ্যাপক শেখ সাবির আলী, পৌর কাউন্সিলর ময়েজ উদ্দিনসহ সম্মিলিত পেশাজিবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্তিত ছিলেন।

২৬ আগষ্ট ফুলবাড়ী গণআন্দোলনের ১১ বছর প্রতি উপলক্ষে ফুলবাড়ী সম্মিলিত পেশাজিবী সংগঠনসহ বিভিন্ন আন্দোলনকারী সংগঠন পৃথক পৃথক ভাবে নানা কর্মসুচির পালন করেছে

উল্লেখ্যঃ ২০০৬ সালের ২৬ আগষ্ট উম্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি বাস্তবায়নের প্রতিবাদে, এশিয়া এনার্জি নামক একটি বহুজাতীক কোম্পানীর অফিস ঘেরাও কমৃসুচি পালন করতে গিয়ে, আইন শৃংখলা বাহীনীর গুলিতে আমিন সালেকিন ও তরিকুল নামে ুতন যুবক প্রান হারায়, একই ঘটনায় আহত হয় আরো কয়েকশ সাধারন মানুষ। এই ঘটনায় ফুলবাড়ী বাসীর গণআন্দোলনের মুখে ছয দফা চুক্তি করতে বাধ্র হয় তৎকালিন সরকার। এর পর থেকে সরকারের করা ছয় দপা চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন করে আসচ্ছে ফুলবাড়ী বাসী ও তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য