মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও থেকেঃ সম্প্রতিকালে বিভিন্ন মানবিক বিষয়ে এগিয়ে আসার জন্য ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়েছেন। বিভিন্ন পত্রিকায় “ঠাকুরগাঁওয়ে বৃদ্ধা শাশুড়িকে বাড়ি থেকে বের করে দিল পুত্রবধূ” শিরোনামে একটি খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখলে ওই বৃদ্ধা মায়ের সকল দায়িত্ব গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল। এবারো আর এক বৃদ্ধা মায়ের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দিলেন তিনি।

জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল জানান, ছেলের গৃহবধূ বৃদ্ধা মা’কে রাতে বের করে দেওয়ার খবরটি আমাকে আবারো ব্যথিত করেছে। ছেলেরা যদি এই বৃদ্ধা মায়ের ভরণ পোষণ করতে না চাই আমিই দায়িত্ব আমি গ্রহণ করবো এই বৃদ্ধা মায়ের।

তিনি আরো বলেন, বলেন, বিবেক, মানবতা এবং নৈতিকতা আমরা বর্তমানে সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেছি। আমরা যারা বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে অবহেলা করছি, তাদেরকে বোঝা মনে করছি, বৃদ্ধাশ্রমে তাদেরকে ফেলে রেখেছি, তারা কি কখনো ভেবে দেখেছি- আজ তারা বৃদ্ধ। তারা তো বৃদ্ধ হয়ে পৃথিবীতে আসেননি। তারা তো পরিবারের বোঝা ছিলেন না। বরং আমরা সন্তানরাই তো তাদের ‘বোঝা’ ছিলাম।

আমরা নিজ নিজ সন্তানকে প্রথম থেকেই যদি মানবিক দিক গুলো তুলে ধরি পিতা-মাতা দায়িত্ব, বৃদ্ধ বয়সে তাদের অবহেলার চোখে না দেখা ও ছোটদের স্নেহ, বড়দের শ্রদ্ধার বিষয় গুলো তুলে ধরা প্রত্যেক অভিভাবকের দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমাদের এখন থেকেই সচেতন হতে বৃদ্ধা পিতা মাতাকে শেষ বয়সে ভরপোষন দায়িত্ব পালন করার বিষয়ে। তিনি আরো বলেন, “আসুন সকলে আমরা মানবিক হই, তাহলে সমাজ অনেক সুন্দর হবে”।

উল্লেখ্য, গত রবিবার রাতে ওই শতবর্ষী বৃদ্ধাকে ছোট পুত্রবধূ বাড়ি থেকে বের করে দিলে শহরের সন্তোষ আগারওয়ালা নামে এক ব্যক্তি তাকে উদ্ধার করেন।

শহরের ঘোষপাড়া এলাকার মৃত রাম বিলাস তার সম্পত্তি চার ছেলের মধ্যে ভাগ করে দিয়ে ১ শতক জমি স্ত্রী রামপরীর নামে উইল করে দিয়ে যান। শর্ত ছিল যে ছেলে মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেবে, মায়ের মৃত্যুর পরে সেই পাবে তার জমি। ছোট ছেলে শংকর জায়গার লোভে মার দায়িত্ব নেয়, কিন্তু শংকরের স্ত্রী শতবর্ষী রামপরীকে ভুল বুঝিয়ে জায়গা লিখে নিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। আর চার সন্তানের কেউই এখন তার দায়িত্ব নিতে চাইছে না।

এ ছাড়া গত ১৫ আগষ্ট মঙ্গলবার জেলার হরিপুর উপজেলার ডাঙ্গীপাড়া এলাকার শতবর্ষী বৃদ্ধা মা ভাত খেতে চাইলে পুত্রবধূ ও পাষন্ড ছেলে বদির উদ্দিনের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়। সেই নির্যাতনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখে কষ্টে ব্যথিত হন তিনি। পরের দিন বুধবার সকাল ৭টায় জেলা শহর থেকে ৭০কি:মি: পাড়ি দিয়ে সীমান্তবর্তী এলাকা ডাঙ্গীপাড়া থেকে ওই নির্যাতিত আহত বৃদ্ধা মাকে একটি পরিত্যক্ত ঘরের ঝুপড়ি ছাউনী থেকে উদ্ধার করেন।

পরে নিজে কোলে করে এ্যাম্বুলেন্সে তুলে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে বৃদ্ধা মায়ের চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় দায়িত্ব গ্রহণ করছেন তিনি। জেলার সরকারি একজন সর্বোচ্চ বড় কর্মকর্তা হয়েও আহত বৃদ্ধা মা’কে উদ্ধার করার ছবি ও প্রতিবেদন দৈনিকে ইত্তেফাকের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয় ডিসি আব্দুল আওয়ালে মানবিকতার।

একজন বৃদ্ধা মায়ের দায়িত্ব পালন করে প্রশংসিত হয় ঠাকুরগাঁওসহ দেশ ব্যাপি। ডিসি আব্দুল আওয়ালের এক বয়স্ক মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও মানবিকতা সকলের নজর কেঁড়েছে তখন সারাদেশের মানুষের কাছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য