ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে দেখা দিয়েছে বীজচারার সঙ্কট। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে কৃষক নতুন করে শুরু করেছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ রোপা আমন রোপনের কাজ। ক্ষতিগ্রস্থ জমিতে নতুন করে আমন রোপন করতে গিয়ে দেখা দিয়েছে বীজ চারার সঙ্কট। আবার অনেক কৃষক পার্শবর্তী আমন ক্ষেতের রোপা আমন তুলে তা আবার পুনঃরোপন করছে, এতে এক জমির রোপা দিয়ে আরো কয়েকটি জমি রোপন করা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষক।

কাজিহাল ইউপির রসুলপুর গ্রামের কৃষক শাহাজার আলী বলেন তার পাচঁ বিঘা জমি একেবারে ধ্বংশ হয়ে গেছে, সম্পুর্ন জমি নতুন করে রোপন করতে হবে, এখন বীজচারা অভাবে সে রোন করতে পাছেনা। একই কথা বলেন একই এলাকার কৃষক আবুল কাশেত, মইচাদা গ্রামের কৃষক মাহবুবুর রহমান। কাজিহাল ভেড়ম গ্রামের কৃষক আব্দু রহিম বলেন তার সাত বিঘা জমি একে বারে শেষ হয়ে গেছে এখন বীজচারা অভাবে নতুন করে রোপন করতে পারছেনা।

তরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এটিএম হামিম আশরাফ বলছেন, বিকল্প উপায়ে বীজ চারার চাহিদা নিবারন করা হচ্ছে, তাই এই সঙ্কট কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ আমন ক্ষেত পুনরায় রোপন করার জন্য নতুন করে বীজ তলার কাজ শুরু করেছে অনেক কৃষক।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এটিএম হামিম আশরাফ বলেন, আমন মৌসুমে এই উপজেলায় প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমন রোপন করা হয়েছিল, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৬১৩০ হেক্টর, এর মধ্যে আংমিক ক্ষতি হয়েছে ৪৫৮৫ হেক্টর, বাকি১৫৪৫ হেক্টর জমি সম্পুর্ন ক্ষতি হয়েছে। যা নতুন করে রোপন করতে হবে। তিনি বলেন পার্শবর্তী জমি থেকে রোপা তুলে তা ভেঙ্গে, ওই রোপা দিয়ে পাচঁগুন জমি পুনঃরোপন করা সম্ভাব এই পারামর্শ কৃষকদের তারা দিয়েছেন, তাদের পারামর্শ অনুযায়ী কৃষকরা পুরোদমে আমন পুনঃরোপন করা শুরু করেছে, আবার বীরী ৩৪ জাতের কাটারী ধানের বীজ তলা তৈরীর কাজ ইতি মধ্যে শুরু করা হয়েছে, ওই বীজচারা দিয়ে আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে রোপন করা সম্ভাব হবে। এই জন্য বীজচারা তেমন কোন সঙ্কট হবে না বলে তিনি দাবী করেন।

এদিকে কৃষকরা বলছেন কৃষি অফিসের এই হিসেব থেকেও বেশি জমি বন্যায় ক্ষতি হয়েছে, অনেক কৃষক আছে যার পুরো জমি পুনঃ রোপন করতে হবে, তারা বীজচারা পাবে কোথায়, এক হাজার টাকা পোন(১৬০টি তাড়া) দরেও বীজ চারা পাওয়ায় যাচ্ছেনা, আবার নতুন করে বীজচারা তৈরী করে আমন রোপন করার সময়ও নাই, এই কারনে তারা বিপাকে পড়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য