র‌্যাব-১৩ নীলফামারী ক্যাম্পের অভিযানে স্থানীয় কালিতলা বাস টার্মিনাল এলাকায় নকল ও ভেজাল সার তৈরীর কারখানার সন্ধ্যান পাওয়া গেছে। গোপন সংবাদের গতকাল সোমবার রাতে আটটার দিকে সিপিসি-২ নীলফামারী র‌্যাব ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি অধিনায়ক সহকারী পুলিশ সুপার শাহীনুর কবির, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট হাসান আলী এবং কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম এর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে।

এ অভিযানে অবৈধভাবে উৎপাদিত ভেজাল সার ও সার তৈরীর উপকরণ সহ নীলফামারী শহরের নতুন বাজার কালিতলা মহল্লার মৃত. আলহাজ নুরুল ইসলামের ছেলে এডভান্স নামের ভেজাল সার কারখানার মালিক রফিকুল ইসলামকে (৪০) গ্রেফতার করে।

এ সময় ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদ- ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করে অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদ- প্রদান করে। জরিমানার টাকা তাৎক্ষনিকভাবে পরিশোধ করায় ভেজাল সার কারখানার মালিককে ৬ মাসের সাজা ভোগের জন্য রাতেই জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাটি সিলগালা করে দেয়া হয়।

অভিযানে সেখানে ভেজাল সার তৈরীর সরঞ্জামাদি সহ একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। জব্দকৃতর মধ্যে রয়েছে, বালুর দানা (পিভিসি রসিন) ১৩৮টি বস্তা (৫০ কেজি বস্তা), ৩৪০টি বালুর বস্তা (৫০ কেজি বস্তা), সোপার বোরন ২০০০ কেজি (১ কেজি প্যাক), থ্রিভিট ৫৫০ কেজি (১ কেজি প্যাক), আমেরিকান গ্রোজিংক ৩৭৫ কেজি (১ কেজি প্যাক), গ্রোজিংক ১৩০০ কেজি (১ কেজি প্যাক) মুক্তা জিপসার ৮৪৫০ কেজি (৫ কেজি প্যাক), আমেরিকান রয়েল বোরন ৬৫০ কেজি (১ কেজি প্যাক), খোলা ভেজাল দস্তার দানা ৪০০০ কেজি (আনুমানিক), সোডিয়াম সালফেট আনহাইড্রেট ৯ টা (৫০ কেজি বস্তা), ক্যালসিয়াম পাউডার ১১ টা (৫০ কেজি বস্তা), ডায়াজিনন ৬০০ কেজি (১ কেজি প্যাক কাটুন), ভেজাল সার তৈরীর মিক্সার মেশিন ২ টা, প্যাকিং মেশিন ১ টা, হলার মেশিন ১ টা, ফুরাডান কালার ২ টা ড্রাম, খালি বস্তা ২ কাটুন (আনুমানিক ২০০০টা), খালি কাটুন ৫০০০ টি, খালি প্যাক ৫০০০টি এবং ১টি ৫ টন ধারণ ক্ষমতা ট্রাক (যার নম্বর ঢাকা ট-১৪-৭৭৪১)।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেখানে দেশ কয়েল কারখানার আড়ালে ওই নকল সারের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল তারা। ২০১৬ সালে ১৬ আগস্ট ওই কারখানায় ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়েছিল। সে সময় ওই ভেজাল কারখানাটি পরিচালনা করতেন নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের জামিরবাড়ি চাকধাপাড়া গ্রামের এজাজুল হকের ছেলে মামুনুর রহমান।

সে সময় জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যোবায়ের হোসেন মামুনুর রহমানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছিল। সেই সঙ্গে নকল সারকারখানাটি বন্ধ করে দিয়ে প্রায় ১৪ প্রকারের নকল সার কীটনাশক ও বালাই নাশক জব্দ করেছিল। ওই ঘটনার পর সেখানে দেশ কয়েল কারখানা শুধু চলতো।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য