পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্লক তৈরির কাজে ধীরগতি ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী ও দায়সারাভাবে তৈরি ব্লকে সরকারের কাক্ষিত সুফল আসবে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, তেঁতুলিয়া উপজেলার ময়নাগুড়ি বিজিবি ক্যাম্পের সামনে করতোয়া নদীর বাম পাশে ভাঙ্গনের আশঙ্কা দেখা দেয়।

তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ২শত ৫০ মিটার বাঁধের জন্য দরপত্র আহবান করা হলে নিয়ম অনুযায়ী ফরিদপুর জেলার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স খন্দকার শাহীন আহমেদ কাজের দায়িত্বভার গ্রহণ করে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে কার্যাদেশ প্রদানের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ব্লক ডাম্পিং কাজ এখনও শুরু করেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

তবে কিছুদিন আগে ব্লক তৈরির কাজ শুরু করেন বলে জানায় অফিস কর্তৃপক্ষ। ব্লক তৈরির স্পটে একাধিকবার গেলেও অফিসের কোন লোকজন পাওয়া যায়নি। ব্লক তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে পচা বিভিন্ন সাইজের পাথর, ময়লা বালি। তৈরি করা ব্লকগুলো একটির সাথে আরেকটি মিলছে না। সাজিয়ে রাখা আঁকাবাঁকা ব্লকের ছবি তুলতে গেলে কয়েকজন যুবক এগিয়ে আসে।

ছবি তোলার প্রয়োজন নেই জানিয়ে তারা ভজনপুর এলাকার মো: নুরুজ্জামানের সাথে কথা বলতে অনুরোধ করেন। নুরুজ্জামানের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাজের মান খারাপ হলে নিউজ করে দেন।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মো: ওসমান গনি জানান, ময়নাগুড়ি এলাকায় করতোয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করতে মেসার্স খন্দকার শাহীন আহমেদ নামের এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ৫-৬ বার চিঠি প্রদান করেছি। দু’বছর পর হলেও তারা ব্লক তৈরি শুরু করেছে। করতোয়া নদীর ঐ অংশের ভাঙ্গন রোধে আমরা ১ কোটি ৮৯ লক্ষ ১০ হাজার টাকায় তিন সাইজের মোট ৬৩ হাজার ২ শত ৮২ টি ব্লক তৈরির আহবান করেছি।

পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মিজানুর রহমান জানান, আমাদের দফতর থেকে কাজ ভালো করার জন্য ঠিকাদারদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি কঠিন নির্দেশনা দেওয়া আছে। কারণ এই ব্লকগুলো ঢাকা থেকে টিম এসে বিভিন্ন পরিক্ষা-নিরিক্ষার পর ডাম্পিং করা হবে। ডাম্পিংয়ের অনুপযোগী ব্লক ডাম্পিং করা হবে না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য