মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও থেকেঃ ঠাকুরগাঁও পৌরশহরের ঘোষপাড়া এলাকার মৃত রাম বিলাসের স্ত্রী শতবর্ষী রামপরী। যিনি আজও পাননি বয়স্ক ভাতা। তার দায়িত্ব নিতে নারাজ ছেলে-পুত্রবধূরাও। এই অবস্থায় আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন ওই বৃদ্ধা।

উনার বয়স্ক ভাতার বিষয়ে পৌরমেয়র মির্জা ফয়সাল আমীন জানান, ওই বৃদ্ধার বিষয়ে অবগত ছিলাম না। এখন জানলাম। উনার বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।

জানা গেছে, গত রবিবার রাতে ওই শতবর্ষী বৃদ্ধাকে ছোট পুত্রবধূ বাড়ি থেকে বের করে দিলে শহরের সন্তোস আগারওয়ালা নামে এক ব্যক্তি তাকে উদ্ধার করেন।

জানা গেছে, রামপরীর স্বামীর মৃত্যুর আগে ৪ ছেলের নামে ৪ শতক জমি লেখে দিয়ে যায় আর ১ শতক জমি স্ত্রী রামপরীর নামে উইল করে দিয়ে যায়। উইলে উল্লেখ করা হয়, মৃত রাম বিলাস মৃত্যুর পর যে ছেলে স্ত্রী রামপুরীর দায়িত্ব গ্রহন করবেন তার নামে থাকা এক শতক জমি ওই ছেলে নিবে ও মায়ের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভরণপোষনের দায়িত্ব পালন করবেন।

মায়ের নামে সেই জমি পাওয়ার লক্ষ্যে ছোট ছেলে শংকর ঠাকুর বৃদ্ধা মাকে নিজ পরিবারের সাথে রাখেন ও ভরণপোষনের দায়িত্ব গ্রহন করেন। সমপ্রতি ছোট ছেলে শংকরের গৃহবধূ সমতি রাণী বৃদ্ধা মাকে ভুল বুঝিয়ে ১ শতক জমি লেখে নেয়। পরে ছোট ছেলে শংকর বাবার দেয়া ১ শত ও মায়ের নামে থাকা ১ শতক জমি নিয়ে বাড়ি নির্মান কাজ শুরু করেন। এরপর বাড়ি নির্মান কাজের জন্য বৃদ্ধা মাকে বোনের বাসায় পঞ্চগড় রেখে আসেন।

দীর্ঘদিন বৃদ্ধা মা মেয়ের বাড়িতে থাকার পরে ছেলের বাড়ি নির্মান শেষে আবার ছোট ছেলে শংকরের বাড়িতে চলে আসেন। এরপর থেকে শংকরের স্ত্রী সমতি রাণীর বৃদ্ধা শ্বাশুরির উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। প্রায় সময়ই বৃদ্ধা মা রামপরী খেতে চাইলে পুত্রবধূ সমতি রাণী বাড়ি থেকে বের করে দিতেন বলে অভিযোগও রয়েছে।

এ নিয়ে বৃদ্ধা মায়ের বড় ছেলে নন্দ লাল ভরণপোষনের দায়িত্বে অবহেলার কারণে ছোট ভাই শংকরের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতে সেই মামলার রায়ে শংকরকে জরিমানা ও পুনরায় বৃদ্ধা মাতার ভরণপোষনের দায়িত্ব অর্পন করেন তার ছোট ছেলের কাছে।

গত রবিবার রাতে বৃদ্ধা মা ছোট পুত্রবধূর কাছে ভাত খেতে চাইলে আবারো তাকে বাড়ি থেকে বের করেন দেন রাস্তায়। এ সময় রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ে শহরের সন্তোস আগারওয়ালা নামে এক ব্যক্তি বৃদ্ধা মাকে উদ্ধার করে একটি দোকানে নিয়ে যান। ঘটনাটি অবগত হলে তাত্ক্ষনিক আমাদের প্রতিবেদক ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে, একটি টেইলার্সের দোকানে বসে শতবর্ষী একবৃদ্ধা মা কান্না করছেন।

কি হয়েছে জানতে চাইলে ওই বৃদ্ধা মা বলেন, রাতে ভাত খেতে চাওয়ায় ছেলের বউ বাড়ি থেকে বের করে দিসে। প্রায় আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় বলেও অভিযোগ করেন ওই বৃদ্ধা মা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য