নীলফামারীর ডিমলায় অন্তঃসত্তা শেফালীকে গাছে বেধে মধ্যযুগীয় নির্যাতনের রেশ কাটতে না কাটতে এবার মাকে বাড়ীর উঠানে বেঁধে রেখে ৩ সন্তানের এক জননীকে ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে আজ রোববার ভোর রাতে জেলার ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নর দুর্গম চর পশ্চিম ছাতুনামায়। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মাকে বাড়ীর উঠানে বেধে রেখে ৩ সন্তানের জননীকে তুলে ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বখাটেদের বিরুদ্ধে।

সকালে পশ্চিম ছাতুনাম গ্রামের মেয়েটির বাড়ী থেকে ১ কিলোমিটার দুরে মুমুর্ষ হাত-পা বাধা অবস্থায় ফেন্সী বেগম (২৭) দেখতে পায় এলাকাবাসী। সে ওই গ্রামের কলিম উদ্দিনের কন্যা ও একই এলাকার রশিদুল ইসলামের স্ত্রী। নির্যাতিতার পারিবারিক সুত্র জানায়, ঘটনার দিন ভোরে ফেন্সী বেগমকে বাড়ী থেকে নিয়ে যায় স্থানীয় বখাটেরা। এ সমফেন্সীকে নির্জন এলাকায় নিয়ে স্থানীয় বখাটেরা জোর পুর্বক ধর্ষন করেন।

দুপুরে পুলিশ হাত পা বাধা অবস্থায় ফেন্সী ও তার মা ফাতেমা বেগমকে উদ্ধার করে। ডিমলা থানার সাব ইন্সেপেক্টর শাহাবুদ্দিন ঘটনাস্থল থেকে ফেন্সী ও তার মাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। বিকালে ৩টায় মেয়েটির ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য পুলিশ পাহারায় নীলফামারী আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফেন্সী বেগম এই জানায়, তার মুখ বেধে ৩/৪ জন তাকে গনধর্ষন করেছে। কারা তাকে ধর্ষন করেছে তাদের নাম সে বলতে পারেনি।

ফেন্সীর মা ফাতেমা বেগম জানান, আমার জামাতা রশিদুল ইসলাম বাড়ীতে না থাকায় আমি, মেয়ে ফেন্সিসহ আমার নাতনী রেখা (৭), পারভীন (৩) ও নাতি সবুজ (৫) সহ জমাই বাড়ীতে বসবাস করতাম। রোববার ভোরে রাতে পার্শ্ববর্তী মিস্টার, রহিম, দেলওয়ার, চেতনাসহ ১০/১২জন আমার মেয়ের রুমে প্রবেশ করে তাকে হাত পা বেধে কাধে করে নিয়ে যায়।

এ সময় তারা আমার মুখে বেধে বাইরে উঠানে রশি দিয়ে বেধে রাখে। আমার নাতনী রেখা আক্তারের আর্ত্বচিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। ফেন্সীর পিতা কলিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, পার্শ¦বর্তী আবুল হোসেন, মোকলেছার রহমান, চাটি মামুদের সাথে জমি নিয়ে দ্বন্দ চলে আসছিল। আমার পরিবারের ক্ষতি করার জন্য পরিকল্পিতভাবে আমার স্ত্রীকে বেধে রেখে ফেন্সী তুলে নিয়ে নির্জন স্থানে ধর্ষন করে।

ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্মরত ডাক্তার কৃষ্ণা রানী সেন জানান, দুপুর ২টায় ফেন্সী ও তার মা ফাতেমা বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মেয়েটি অভিযোগ করেন তাকে ধর্ষন করা হয়। মেয়েটির ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বিকাল ৩টায় নীলফামারী আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, ঘটনার শিকার মেয়েটির ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য নীলফামারীতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। এ রিপোট লেখা পর্যন্ত থানার মামলা দায়ের হয়নি, তবে পরিবারকে থানায় মামলা দেবার পরামর্শ দেয়া হয়েছে ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য