মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) থেকে: সৈয়দপুরে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন প্রতিবেশী এক বিধবা’র বাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও জবরদখল করেছে বলে অভিযোগ মিলেছে। প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় আদালতে মামলা করে বিপাকে পড়েছেন ওই বিধবা। বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকী ও ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ মিলেছে।

জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের বকশাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন মৃত্যুবরণ করার পর তার স্ত্রী হামিদা বেগম দুই ছেলে সন্তান সামিউল ও হামিদুলকে নিয়ে শান্তিতেই দিনাতিপাত করছিলেন। কিন্তু ওই বিধবার জমিতে লোলুপ দৃষ্টি পড়ে প্রতিবেশী মৃত শমসের আলীর পাঁচ পুত্র আবু তালেব (৩৫), মোতালেব (৩২), মোতাহার (৩০), মোখলেস (২৮), মশিউর (২৬) এর। তারা বিভিন্ন সময়ে ওই বিধবা পরিবারটিকে উচ্ছেদ করতে একের পর এক অত্যাচার চালিয়ে আসছিল।

তারা প্রভাবশালী হওয়ায় নিরুপায় বিধবা সুবিচারের আশায় বিভিন্ন জনের কাছে অভিযোগ দাখিল করেন। কিন্তু কেউই সুবিচার করেননি ওই বিধবার প্রতি। সবশেষ গত ১৯ জুলাই প্রভাবশালী ওই পাঁচ ভাইসহ ভাড়াটে লোক জাহাঙ্গীর বিধবার বাড়িতে হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিধবার দুই ছেলে সামিউল ও হামিদুলকে বেদম মারপিট করে। ছেলেদের বাঁচাতে বিধবা হামিদা এগিয়ে এলে তাকেও জখম করে তারা। তাদের আঘাতে বিধবা ও তার দুই ছেলে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে এলাকাবাসী শরনাপন্ন অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করায়।

এদিকে, প্রভাবশালী ওই মহলটি বিধবা হামিদাকে গ্রাম ছাড়া করতে বাড়ি খালি পেয়ে ভাঙ্চুর ও অগ্নিসংযোগ ঘটায় এবং এক পর্যায়ে দুই শতক জমির ওই বসতভিটা অবৈধ দখলে নেয়। এমনকি ওই মহলটি বিধবা ও তার ছেলেদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে গ্রামবাসীকে বিক্ষুদ্ধ করে তুলছে এবং তাদেরকে গ্রামে ঢুকতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে ওই বিধবা তার সন্তানদের নিয়ে প্রাণনাশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

এ ব্যাপারে ভুমিদস্যু আবু তালেবের সাথে কথা হলে তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, আমার জমি আমি দখল করেছি, তাতে সাংবাদিকের কি? পেপার-পত্রিকায় লেখালেখি করলে আপনার পরিণাম হবে ওই বিধবার মতো। এমন মামলা দিব যাতে জীবনে জামিন পাবেন না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য