চিরিরবন্দরে বিয়ের প্রলোভনে আপন চাচাত শ্যালিকাকে দুলাভাই ধর্ষন করায় শ্যালিকা ৫ মাসের অন্তস্বত্ত্বা হয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার বেলতলি বাজারের সোনার বাংলা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের পরিচালক শিক্ষক লম্পট দুলাল হোসেন (৩৫) গত ফেব্রুয়ারী মাসের মাঝামাঝি সময়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পূর্বে মাদরাসায় পড়–য়া চাচাত শ্যালিকাকে(১৪) আত্মীয়তার সুযোগে স্কুলে ডেকে নিয়ে এসে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ও প্রথমদিন জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং সে দৃশ্য মোবাইলে কৌশলে ভিডিও করে রাখে। তারপর থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রানে মেরে ফেলাসহ ভিডিও ফাঁস করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে প্রায় নিয়মিত স্কুলে ডেকে এনে জোরপূর্বক ধর্ষন করত।

এতে শ্যালিকা ৪ মাসের অন্তস্বত্ত্বা হয়ে পড়লে ওই পরিচালক স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে ঔষধ নিয়ে গর্ভপাতের চেষ্টা চালায়। বর্তমানে শ্যালিকা ৫ মাসের অন্তস্বত্ত্বা হয়ে পড়লে ওই পরিচালক বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে কৌশলে এড়িয়ে চলতে শুরু করে। গতকাল ১৯ আগষ্ট শনিবার রাত আনুমানিক ৮ টায় প্রতারক দুলাল হোসেন অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার সময় শ্যালিকা রাস্তায় তাকে আটক করে ও বিয়ের দাবি জানায়। এসময় ওই ধর্ষনকারী দুলাভাই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। প্রতিবেশি যুবকেরা এগিয়ে আসলে সে মোটর সাইকেল ও মোবাইল ফেলে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সহায়তায় পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় শ্যালিকা জানায়, প্রথমে বিয়ের প্রলোভনে ও পরে ভিডিও ফাঁস করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে দুলাভাই স্কুলে ডেকে নিয়ে এসে ধর্ষন করেছে। সে আরো জানায়, ওই লম্পট দুলাভাই স্কুলের শিক্ষিকাসহ অন্তত দুইজন ছাত্রীর সংগেও তাদের ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে প্রায় শারীরিক সম্পর্ক করত। বর্তমানে ছাত্রীগুলো অন্য প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করছে।

পরিচালক দুলাল হোসেনের এলাকার বেশ কয়েকজন সচেতন ব্যাক্তি জানান, ওই ছেলে এধরণের অপরাধ অনেক করেছে। প্রতিবারেই তার বাবা তাকে বাচিয়েছে। এতে করে সে সাহস পেয়ে দুঃসাহসী হয়ে পড়েছে। তার কারণে এলাকার বেশ কয়েকটি মেয়েদের বাল্যবিবাহ দিতে বাধ্য হয়েছেন অভিভাবকরা।

চিরিরবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হারেসুল ইসলামকে এ বিষয়ে জানানো হলে তিনি মোবাইলে ওই অন্তস্বত্ত্বা মেয়েটির সাথে কথা বলেন ও থানায় এজাহার দায়েরের পরামর্শ প্রদান করেন। তিনি জানান, অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসি ওই স্কুলটি বন্ধ করে দিয়েছে এবং অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের অন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির অনুরোধ জানিয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। দুলাল হোসেন আব্দুলপুর ইউনিয়নের ক্ষয়জাপুর গ্রামের মসলেম উদ্দিনের ছেলে। সংরক্ষিতসহ স্থানীয় ইউপি সদস্য ও কতিপয় সুবিধাবাদি মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য