দেলোয়ার হোসেন বাদশা, চিরিরবন্দর থেকেঃ দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে বন্যাকবলিত এলাকায় বন্যার্তদের সাহায্যের হাত না বাড়িয়ে উল্টো জোর পূর্বক এনজিও’র ঋণের কিস্তির টাকা আদায়ে মরিয়া হয়ে উঠেছেন এনজিও কর্মীরা। এ নিয়েউপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন আব্দুলপুর ইউনিয়নের দক্ষিন সুকদেবপুরগ্রামের হতদরিদ্র ঋন গৃহীতারা।

তারা জানান, পেটের দায়ে কড়া সুদে এনজিও’র কাছ থেকে ঋণ নিয়ে কেউবা ভ্যান রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ ও ঋনের কিস্তি পরিশোধ করে আবার কেউ হাস মুরগী গরু ছাগল কিনে তা পালন করে সংসার চালায় সেখানকার লভ্যাংশ দিয়ে কিস্তির টাকা পরিশোধ ও পরিবার পরিচালনা করেন। কিন্তু চলমান বন্যা তাদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। বাড়ি ঘর সবই এখন ভেঙ্গে চুরমার হয়েছেএখন তাদের প্রয়োজন পূর্নবাসন।

তারা আশ্রয় নিয়েছে আশে-পাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।তাদের করুন অবস্থায় তাদের দেখার কেউ নাই।এমন অবস্থায় উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি এনজিও গুলো বন্যাদুগর্তদের মানুষকে সহায়তা না করে উল্টো ঋণের কিস্তি আদায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।অসহায় বন্যার্ত মানুষ কিস্তি দিতে সামান্য বিলম্ব করলেও মানছেন না এনজিও গুলোর কিস্তি আদায়ের দায়িত্বে থাকা মাঠকর্মীরা।

এমতাবস্থায় গত বৃহস্পতিবার আব্দুলপুর ইউনিয়নের দক্ষিন সুকদেবপুর গ্রামের ঋন গৃহীতা আছিয়া, সাবিনা, কোহিনুর, আছেমা, মাহামুদা, বানু, বিলকিস, সহিদা, রাহেনা, মনজু, মৌসুমি, শারমিন, আফরোজা, নাছিমাসহ বন্যাকবলিত এলাকার গ্রামীন ব্যাংক, আশা, টিএমএস এর এনজিও সদস্যরা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেবলেন,প্রতি সপ্তাহের মতোই এনজিও কর্মীরা এসে ঋণের কিস্তি আদায় করছে। না দিতে চাইলে নানা রকম কথা বলছেন।

কয়েক জনের কিস্তির টাকা বাকি থাকলে সেগুলো সন্ধায় এসে পুনরায় নিবেন বলে জানিয়ে যাচ্ছেন। সুকদেবপুর গ্রামের এনজিও সদস্য মোরশেদা,নিলুফা,আনোয়ারা,জিন্নাতুনসহ আরও অনেকে জানান, গত ১৪ ও ১৫ আগষ্ট সরকারি ছুটির দিন থাকায় আশা ও গ্রামীন ব্যাংকের ঋণের কিস্তির চাপ থেকে রক্ষা পেয়েছেন তারা। এনজিওগুলোর মধ্যে ব্র্যাক, গ্রামীনব্যাংক, টিমএমএস, ঠেঙ্গামারাসহ বেশ কয়েকটি ও এনজিওর এরিয়া ম্যানেজারদেরসঙ্গে কথা হলে তারা জানান,বন্যার কথা উর্ধ্বতন কৃর্তপক্ষকে জানানো হয়েছে।

দুগর্তদের সহযোগিতার অনুমতি পেলে যথা সময়ে পৌছে দেব। ঋণের কিস্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন,আমরা কৃর্তপক্ষের চাকরি করি।ঋণ যে সদস্যরা নিয়েছেআমাদের তা আদায় করতেই হবে । তবে কৃর্তপক্ষ যদি বিষয়টি বিবেচনা করে তাহলে আমাদের কোন কিছু করার নেই। দাবী এই মুহুর্তে ঋণের কিস্তির চাপ দেওয়াটা তাদের উপর এক ধরনের মানসিক নির্যাতন বলেও মনে করছেন এলাকাবাসীর অনেকে ।

এ ব্যাপারেউপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: গোলাম রব্বানী বলেন,কিস্তির জন্য চাপ সৃষ্টি করে কিস্তি আদায় করছে এনজিওগুলো এমন লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তবে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি এবং লোকজন ঘরে না ফেরা পর্যন্ত কোন এনজিও যাতেকিস্তি আদায় করতে না পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য