আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: ছোট্ট শিশুটির চোখ-মুখে হাতাশা আর চিন্তার ছাপ স্পষ্ট, ফর্সা মুখটি দেখাচ্ছে কালো। শরীরটা শুকিয়ে রোগা আক্রান্ত। শাহানাজ আক্তার কে বইয়ের কথা বলতেই দুই চোখ বেয়ে পানি ঝরছিল তার। কান্না জড়িত কণ্ঠে বলছিলো, স্যার আমি কি আবারও স্কুলে যেতে পারবো? আমার যে পড়ার সব বই ভেসে গেছে? স্যাররা কি আমাকে আবার বই দিবে? আমি কি স্কুলে যেতে পাবো?

এভাবেই সেই দিনের ভয়াল বন্যার আতঙ্ক আর হতাশা নিয়ে কথাগুলো বলছিলো লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার নিজ গড্ডিমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী শাহানাজ আক্তার।সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বন্যার পানিতে বাড়িঘর বইখাতা হারিয়ে স্কুলে যাওয়া নিয়ে হতাশা কাটছেনা শতশত শাহানাজদের। শাহানাজ আক্তার উপজেলার তালেব মোড় এলাকার নিজ গড্ডিমারী গ্রামের দিনমজুর শাহাজামাল আলী ও আন্জু আরা মেয়ে।

পরিবারটি বন্যায় সব হারিয়ে আজ নিঃস্ব।একই এলাকার মৃত আক্কাস আলী ও জরিনা বেগমের মেয়ে ছবুরা আক্তার ৫ম শ্রেণী, ফজল হকের ছেলে কালাম তৃতীয় শ্রেণী, মেয়ে নারগিস দ্বিতীয় ও ফলেরা এসএসসির পরীক্ষার্থী তাদের সব বই ওইদিন রাতে বন্যার পানিতে ভেসে যায়।বইয়ের অভাবে স্কুলে যেতে পারছে না তারা। সেই দিনের রাতের ভয়াল বন্যার আতঙ্কটা কাটেনি। চারদিকে যেন নিস্তব্ধতা।বই শুকাতে দিচ্ছেন এক মা

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলায় শতশত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীর বই বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। অনেক শিক্ষার্থীর বই পানিতে ভিজে গেছে বলে জানান।

শাহানাজ আক্তার মা আন্জু আরা (২৮) বলেন, সেই রাতে হঠাৎ তিস্তা বাঁধ ভেঙ্গে বাড়িঘর সব ভেসে নিয়ে গেছে। তিন ছেলে মেয়েকে নিয়ে রাতের আধারে বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় উঠি। এখন রাস্তায় পরে আছি।

হাতীবান্ধা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হাসান আকিত বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নতুন করে বই দেওয়া ব্যবস্থা করা হচ্ছে।বন্যায় প্রাথমিক বিদ্যালয় ডুবে যাওয়ায় লালমনরিহাট জেলার দুইটি উপজলোর ৩২৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়কি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্য লালমনিরহাট সদর উপজলোয় ১৪৮ টি ও হাতীবান্ধা উপজলোয় ১৭৭ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আগামি ১৯ আগস্ট থেকে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য