রঙিন পোস্টারে ছবি দেখে মুগ্ধ হয় আরফিন। ছড়াগান, অভিনয়, গান গেয়ে, আনন্দে কেটে যায় অনেকটা সময়। মজার মজার গল্পের বই পড়ে আর খেলা করেই পাঠ্যবই ভিত্তিক বর্ণ,শব্দ,ছড়া,গল্প, শব্দার্থ, কারচিহ্ন শিখে ফেলে সে।

হতদরিদ্র পরিবারের জন্ম নেয়া আরফিন স্কুল যেতে চাইতো না। বাবারও ইচ্ছে নেই লেখাপড়ায়। কি হবে লেখাপড়া করে। মায়ের জোড়াজুড়িতে ভর্তি করে দেয় দড়িকিশোরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। কিন্তু স্কুল যেতে চাইত না সে। সহপাঠিদের সাথে সমান তালে পড়তে পারত না। এখন সে নিয়মিত স্কুলে যায়। লেখাপড়াও ভাল করছে সহপাঠিদের থেকে।

বৃহস্পতিবার উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের দড়িকিশোরপুর গ্রামে ইউএসএআইডি এর অর্থায়নে সেভ দ্য চিলড্রেনের কারিগরি সহযোগিতায় ও বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা আরডিআরএস বাংলাদেশ এর বাস্তবায়নে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা পড়ার দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রিড প্রকল্পের আওতায় দড়িকিশোরপুর কমিউনিটি রিডিং ক্যাম্পে কথা আরফিনের সাথে।

তার তাৎক্ষনিক বুদ্ধিমত্তা অবাক করে উপস্থিত সকলকে। সে স্বপ্ন দেখে লেখাপড়া করে অনেক বড় হবে। আরফিনের মা জরিনা বেগম বলেন,”হামার মাইয়্যাটা এখন সুন্দর কইর‌্যা পড়বের পায়”। সংস্থাটি নদী অববাহিকার চরাঞ্চলের দিনমজুর ও স্বল্প আয়ের মানুষের পিছিয়ে পড়া ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার উৎসাহ যোগাতে কাজ করে যাচ্ছে।

কমিউনিটি রিডিং ক্যা¤েপর সিএলভি নয়ন আক্তার জানান, এসব ছেলেমেয়ে পড়ালেখায় পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারন স্কুল ভীতি। তিনি শিক্ষার্থী আফরিনের মধ্যে এখন আশার আলো দেখতে পান ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য